1. thuin.bd25@gmail.com : Golam Sarwar Tuhin : Golam Sarwar Tuhin
  2. neyamulahasan@gmail.com : Neyamul Ahasan Heron : Neyamul Ahasan Heron
  3. tarikpress200@gmail.com : Tarik Hasan : Tarik Hasan
  4. tonmoyahmednayon@gmail.com : Md.Tonmoy Ahmed Nayon : Md.Tonmoy Ahmed Nayon
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন




নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিক্ষামূলকভাবে নতুন জাতের কুল চাষে ব্যাপক সাফল্য

ডিএম রাশেদ পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ।
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
  • ৫৯৪ বার

নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে ধান বাদ দিয়ে অন্যকোন ফসল ফলানোর কোন চিন্তাই করেননি এ অঞ্চলের কৃষক। এ অঞ্চল ধানের জন্য বিখ্যাত। তবে বর্তমানে এ অঞ্চলের কৃষিতে যোগ হয়েছে আম। ধানী জমিতে এখন প্রচুর পরিমানে চাষ হচ্ছে আম। ধানের তুলনায় আম চাষে কয়েকগুন বেশি টাকা আয় হচ্ছে কুষকদের। তাই প্রতি বছর ধানী জমিতে আম গাছ রোপণ বেড়েই চলেছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের এ মাটিতে তৃতীয় ধাপে যোগ হতে চলেছে নতুন জাতের আপেল কুল। যদিও লোকসানের আশঙ্কায় প্রথমে এ অঞ্চলের কৃষকরা কেউ কুল চাষে পা বাড়াতে চাননি। তবে পরে বাইরের এলাকায় কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী জাতীয় নতুন এ আপেল কুল চাষ হচ্ছে জেনে এবং এটির ফলনও লাভজনক হচ্ছে জেনে পরীক্ষামূলকভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলের হাতেগনা কয়েকজন কৃষক কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী নামের আপেল কুল চাষ করেন। চাষের প্রথম বছরেই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন আপেল কুল চাষীরা। তারা প্রথম বছরে সাহস দেখালেও চাষ করেন সামান্য জমিতে। ফলন ওঠার পর সবার মুখে হাসি। ফলন ও দাম দুটোই ভালো পেয়ে আরো ব্যাপক হারে জমিতে এ জাতীয় কুল চাষের পরিকল্পনা করছেন তারা।

নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশা উপজেলার নতুন জাতীয় কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী নামের আপেল কুল চাষী উপজেলার ঘাটনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত সয়েফ উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলাম বেলাল উপজেলার ছাওড় ইউপির সোনাডাঙ্গা খাতিরপুর এলাকায় ২০বিঘা জমি লিজ নিয়ে তৈরি করেছেন বিশাল এক আপেল কুল বাগান।

সরেজমিনে গত রোববার বিকালে তার বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, ২০বিঘার পুরো বাগানে সারি সারি কুলগাছ। গাছের বয়স মাত্র ৭মাস। ৭মাসে পূর্বে গাছগুলো রোপন করা হয়েছে। গাছের আকার ছোট। গাছের সাইজ দেখে মনে হলো গাছগুলো কোন গাছের ডাল। গাছে দুল খাছে বড় বড় কুল। দুর থেকে দেখে মনে হবে বরই গাছে যেন আপেল ধরেছে। ১০পিছ কুলে ওজন হচ্ছে আধা কেজি। কুলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছগুলো। অনেক গাছ বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে, যেন কুলের ভারে গাছ বা ডাল ভেঙ্গে না যায়। কুল বাগানের ভিতরের ফাঁকে ফাঁকে তিনি চাষ করেছেন স্কোয়াশ। এটি মিষ্টি লাউ জাতীয় একটি ফল। এ ফলটি মানুষ সাধারণত তরকারি হিসাবে খেয়ে থাকেন। কুল গাছ রোপনের অনেক পরে স্কোয়াশ গাছের চারা রোপণ করায় শবেমাত্র গাছে ফল ধরা শুরু করেছে।
কুল চাষী হাফিজুল ইসলাম বেলাল জানান, কুল বাগান তৈরি কারার জন্য তিনি ৭মাস পূর্বে ১২বছরের জন্য ২০বিঘা জমি লিজ নেন। জমি লিজ নেওয়ার সাথে সাথে নাটোর জেলা থেকে উন্নতমানের কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী নামের আপেল কুলের সাড়ে ৩হাজার পিছ চারা এনে রোপন করে বাগান তৈনি করেন তিনি। তার বাগানে কাশ্মীরি কুল গাছ রয়েছে দেড় হাজার ও বলসুন্দরী গাছ রয়েছে দেড় হাজার পিছ। বর্তমানে প্রতিটি গাছেই প্রচুর পরিমানে ফল ধরেছে। বাজারে এ জাতীয় বরই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০থেকে ১শ টাকা কেজি দরে। এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭লক্ষ টাকা। আর এবছরই তার বরই বিক্রি হবে ৮লক্ষাধীক টাকার। কুল বাগানের ভিতরের ফাঁকে ফাঁকে রোপন করা স্কোয়াশ থেকেও অনেক লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করছেন। এবং চলতি বছরেই তিনি তার ঐ বাগানের পাশেই আরো ৫৫বিঘা জমিতে নতুন করে একই জাতের বরই বাগান তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহফুজ আলম জানান, পোরশার মাটিতে নতুন ফসল যোগ হচ্ছে আপেল কুল। কুল চাষ পতিত জমিতে হয়। মাটির গুনাগুন হিসাবে পোরশার মাটির কুল খুব মিষ্টি ও সুস্বাধু। এ উপজেলায় সর্বমোট ৩৯একর জমিতে এবছর আপেল কুল চাষ হয়েছে। আগামী বছর থেকে এ উপজেলায় শতাধীক একর জমিতে এ জাতীয় ফল চাষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। বাজারে বলসুন্দরী নামের কুলের চাহিদা ও দাম অনেক বেশি। তাই যারা কুল চাষে আগ্রহী তাদেরকে তিনি বলসুন্দরী নামক নতুন জাতের কুল চাষ করার পরামর্শ প্রদান করেছেন।




নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..