দেশের করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি

প্রভাতী নিউজ অনলাইন রিপোর্টঃপ্রভাতী নিউজ অনলাইন রিপোর্টঃ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ২৪ মে ২০২০




দেশে নভেল করোনাভাইরাসের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিন আগের দিনের তুলনায় বেশিসংখ্যক মানুষ শনাক্ত হচ্ছেন। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করার তথ্য জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব , রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর ১০ দিন পর করোনায় আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।

প্রথম আক্রান্ত হওয়ার ১১ সপ্তাহ পর দেশে মোট করোনারোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩২ হাজার ৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মৃতের সংখ্যা এখন ৪৫২ জন। আক্রান্তের হিসেবে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২৫তম স্থানে।

আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৭৩ জনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে গতকাল ২৩ মে, শনিবার দুপুরে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে এতে আক্রান্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে দ্রুতই পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তারা শুরু থেকেই এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তাদের শঙ্কাই এখন সত্যি হয়ে দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এর আগে ৮ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শক দল জানিয়েছিলেন, ১৬ থেকে ১৮ মে তারিখের মধ্যে পিক শুরু হয়ে তা চলবে ঈদ পর্যন্ত।

তারা আরো জানিয়েছিলেন, ঈদের পর সংক্রমণ কোনো দিন বাড়বে আবার কোনো দিন কমবে। তবে প্রবণতা কমার দিকেই থাকবে। ইতিমধ্যে তাদের পূর্বাভাস ফলে যাচ্ছে। আশঙ্কাজনক হারে দ্রুতই মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

গত ১২ মে দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়ায়। এ সংখ্যা দ্বিগুন হতে মাত্র ১১ দিন সময় লেগেছে।

করোনা আক্রান্তের হার বাড়তে থাকলেও কবে নাগাদ এ হার কমতে শুরু করবে তার পূর্বাভাস দিতে পারছেন না কেউ। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের এখনো আস্থা লকডাউনের ওপরই।

ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, ‘মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার মূল অস্ত্র সচেতনতা। মানুষকে সচেতন হতে হবে। মানুষ বিধিনিষেধ না মানলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে।’

এমনকি প্রয়োজনে কারফিউ জারি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ১ মে দেশে ৫৭১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ২ মে ৫৫২ জন, ৩ মে ৬৬৫ জন, ৪ মে ৬৮৮ জন, ৫ মে ৭৮৬ জন, ৬ মে ৭৯০ জন, ৭ মে ৭০৬ জন, ৮ মে ৭০৯ জন, ৯ মে ৬৩৬ জন, ১০ মে ৮৮৭ জনের শরীরে ধরা পড়ে কোভিড-১৯ নামের ভাইরাসটি।

১১ মে প্রথম বারের মতো দেশে একদিনে সহস্রাধিক করোনারোগী শনাক্ত হয়। সেদিন ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে ভাইরাসটি ধরা পড়ে। এরপর ১২ মে ৯৬৯ জন, ১৩ মে ১ হাজার ১৬২ জন, ১৪ মে ১ হাজার ৪১ জন, ১৫ মে ১ হাজার ২০২ জন, ১৬ মে ৯৩০ জন, ১৭ মে ১ হাজার ২৭৪ জন, ১৮ মে ১ হাজার ৬০২ জন, ১৯ মে ১ হাজার ২৫১ জন, ২০ মে ১ হাজার ৬১৭ জন, ২১ মে ১ হাজার ৭৭২ জন, ২২ মে ১ হাজার ৬৯৪ জন ও গতকাল ২৩ মে নতুন করে ১ হাজার ৮৭৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত রোগীদের তালিকায় আগের মতোই শীর্ষে রয়েছে ঢাকা জেলা। ঢাকায় মোট ১৩ হাজার ৫৮ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে করোনা। মোট ১ হাজার ৫৯৯ জন রোগী নিয়ে আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে চট্টগ্রাম। শনিবার পর্যন্ত এ জেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৪৮ জন।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে- গাজীপুরে ৫৪২ জন, কুমিল্লায় ৪২০ জন, মুন্সীগঞ্জে ৪০০ জন, ময়মনসিংহে ৩৫৬ জন, রংপুরে ৩৫৪ জন, কক্সবাজারে ২৫৯ জন, কিশোরগঞ্জে ২১১ জন, নোয়াখালীতে ২০৭ জন, নরসিংদীতে ১৭৫ জন, নেত্রকোনায় ১৬৪ জন, জামালপুরে ১৫৭ জন, গোপালগঞ্জে ১২৯ জন, যশোরে ১১৬ জন, ফরিদপুরে ১১৪ জন, হবিগঞ্জে ১১২ জন, লক্ষ্মীপুর ১০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

অপরদিকে জয়পুরহাটে ৯৭ জন, ফেনীতে ৯১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৮৯ জন, চাঁদপুরে ৮৯ জন, শরীয়তপুরে ৮১ জন, দিনাজপুরে ৭৮ জন, মাদারীপুরে ৭১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৮ জন, শেরপুরে ৬৬ জন, মানিকগঞ্জে ৬৩ জন, বরিশালে ৬৩ জন, বগুড়ায় ৬৩ জন, নীলফামারীতে ৬০ জন, কুড়িগ্রামে ৫৮ জন, নওগাঁয় ৫৪ জন, সুনামগঞ্জে ৫২ জন কোভিড-১৯ নামের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া নাটোরে ৪৯ জন, সিলেটে ৪৮ জন, রাজশাহীতে ৪৭ জন, ঝিনাইদহে ৪৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৪ জন, রাঙ্গামাটিতে ৪৪ জন, টাঙ্গাইলে ৪৩ জন, মৌলভীবাজারে ৪০ জন, খুলনায় ৩৯ জন, বরগুনায় ৩৭ জন, কুষ্টিয়ায় ৩৭ জন, রাজবাড়ীতে ৩৬ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩৫ জন, সাতক্ষীরায় ৩২ জন, পটুয়াখালীতে ৩০ জন, পাবনায় ২৯ জন, গাইবান্ধায় ২৬ জন, লালমনিরহাটে ২৬ জন, পঞ্চগড়ে ২৪ জন, মাগুরায় ২৩ জন, নড়াইলে ২০ জন, ঝালকাঠীতে ১৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১৬ জন, বাগেরহাটে ১৩ জন, ভোলায় ১৩ জন, বান্দরবানে ৯ জন, সিরাজগঞ্জে ৯ জন, পিরোজপুরে ৭ জন ও মেহেরপুরে ৫ জনের জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।