করোনায় থমকে গেছে টিকা কার্যক্রম, ঝুঁকিতে আড়াই লাখ মা ও শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, ০৫ জুলাই ২০২০




বৈশ্বিক করোনায় তৈরি হওয় অচলাবস্থায় টিকা কার্যক্রম থমকে গেছে। এপ্রিল থেকে জুন, টানা তিন মাস দেশের প্রায় আড়াই লাখ মা ও শিশু ১০ ধরনের টিকা নেয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখোমুখি তারা।

নিয়মিত টিকা না নেওয়ায় বেড়ে যাতে পারে ১০টি রোগের প্রকোপ। এগুলো হচ্ছে- যক্ষ্মা, ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি, মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, নিউমোনিয়া, পোলিও মাইলাইটিস, হাম ও রুবেলা। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ঝরে পড়া মা-শিশুর টিকা পর্যায়ক্রমে পরে দিলেও অসুবিধা হবে না। ইতোমধ্যে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শূন্য থেকে ১৮ মাস বয়সী সব শিশু এবং ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী সন্তান ধারণক্ষম সব নারীকে প্রয়োজনীয় টিকা নেয়ার গুরুত্বের কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।সম্পূর্ণ টিকার ডোজ নেয়ার পর মা-শিশু নিরাপদ থাকে। যদি তিনটি ডোজের দুটি সম্পন্ন হওয়ার পর একটা বাদ পড়ে খুব বড় সমস্যা হবে না। তবে দ্রুত সেই টিকা গ্রহণ করাটা ভালো। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, টিকা না দেয়ার সময়টা দীর্ঘ হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। ইতোমধ্যে আমরা প্রত্যেকটা টিকাদান কেন্দ্র চালু করেছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, যারা গত তিন মাসে শিশুদের টিকা দেননি তারা পরেও দিতে পারবেন। বাদ পড়াদের সংখ্যাটি মোট মা ও শিশুর ১৫-২০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন মাসে টিকাদান প্রক্রিয়া থেকে ঝরে পড়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ মা এবং শিশু। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময় ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ মা-শিশুকে টিকা দেয়া সম্ভব হতো। করোনার কারণে গত ২ মাসে তা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর মো. শামসুল হক বলেন, টিকাদান কর্মসূচির কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। সেটার বাস্তব কারণও আছে। তা হল করোনাভাইরাস। সে কারণে টিকাদান টার্গেটের ১০ শতাংশ কমেছে। যদি টিকা কর্মসূচি ভেঙে পড়ে তাহলে নিউমোনিয়া হামের মতো রোগগুলোর কারণে শিশুমৃত্যু বাড়বে। কিন্তু সেটা তখনই ভয়ের হতো যখন বছরের পর বছর টিকা দেয়া সম্ভব না হতো। আমাদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। এপ্রিল থেকে জুন তিন মাসে প্রায় আড়াই লাখ শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি কিন্তু চলতি মাসে তা আবারও চালু করা গেছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি মাসে যেসব শিশু বাদ পড়েছে তাদের তালিকা আছে। মাকে সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ পরিচালক বলেন, অনেকে ঢাকা শহর ছেড়ে চলে গেছেন। তারা চলে যাওয়ার সময় টিকার কাগজটিও হয়তো নিয়ে যাননি। ফলে তারা ফিরে এলেই আবারও তাদের নিয়মিত করে নেয়া যাবে। কেন্দ্রের পরামর্শকদের কাছে গেলেই সেটি সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের ভ্যাকসিনের কমতি নেই। আগামীতিন মাসের স্টক আছে।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বলছে, শুধু এপ্রিলে নিয়মিত টিকাদান থেকে প্রায় অর্ধেক শিশু বাদ পড়ে। করোনা প্রতিরোধে দেয়া সাধারণ ছুটির সময় বাসায় অবরুদ্ধ থাকার কারণে শিশুরা টিকা পায়নি। ইউনিসেফের হিসেবে এপ্রিলে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার মা-শিশু টিকা পায়নি। মে মাসেও টিকা বঞ্চিতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসাবের চেয়ে ইউনিসেফের হিসাবের পার্থক্য আছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।