গাজীপুর অনলাইন কােরবানী পশু বিক্রয়ে ব্যাপক সাড়া

গাজীপুর অনলাইন কােরবানী পশু বিক্রয়ে ব্যাপক সাড়া




শুরুটা ছিল কােন এক বিকেল স্রেফ আড্ডার ছলে বিশজন কর্মজীবী যুবক তাদের পেশার পাশাপাশি উদ্যাক্তা হওয়ার অন্তঃপ্রয়াস শুরু করে তারা একটা কিছু করার প্রচেষ্টা। ছুড়ে দেয়া হলাে সবার মাঝে আলাচনা,নতুন কি করা যায়, ভাবনাটি। আর এই ভাবনা থেকেই শুরু হলাে ইকুরিয়ার স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এমন কিছু করা যা তরুণদের মাঝে আশাজাগানিয়া একটা সম্পদ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে অজানা আগামীতে। সে ভাবনা আশাঁ রুপ নেয় ২০১৬ এর আগস্ট মাসের প্রথম দিকে।

২০ থেকে ২৫, ২৫ থেকে ৫০ জনে এগিয়ে যায় সদস্যপদ। নতুন উদ্যমে শুরু হয় ৮ই জুন ২০১৮ তাদের প্রথম প্রয়াস। গরু হৃষ্টপুষ্ট‌ করে তা বাজারজাত করার প্রক্রিয়া। বিভিন্ন রকম প্রতিবন্ধকতা আসে প্রথমে,যেমনটা উদ্যোগতা হয়ে মেনে নিতে হয়।এই মেনে নেওয়ার মানসিকতা থেকেই সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে আজ অবদি এগিয়ে চলছে হ্যান্ডশেক এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড। গাজিপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ইকুরিয়া বাজারে স্থাপিত হ্যান্ডশেক এগ্রাে প্রাইভেট লিমিটেড।

যেমনটি বললেন প্রতিষ্ঠানটির তরুণ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রুবেল। কৃষি উদ্যাক্তা হিসেব নিজেক আত্মপ্রকাশ করেত গিয়ে গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করার যে প্রকল্পটি শুরু করি তার প্রথম দিকে বেশ বড় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাদেরকে। খাবারের সংকুলন আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলে ব্যাপক ভাবে। পরবর্তীতে সাইলেস উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিক্রেতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছি। অর্থাৎ যেখানে ঠকেছি, সেখানে থেকে শিখেছি। সকল প্রতিবন্ধকতা উতের যাওয়াকে মন্ত্র হিসেবে নিয়ে প্রত্যেকটি অধ্যায় পার করেছি সফলতার সাথে।

তবে বলাবাহুল্য এখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সহ তার অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযাগিতা ছিল আশাপ্রদ। এই খামার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরীকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত থেকে খামারটির শুরু এবং বর্তমান পর্যায়ে এগিয়ে আসার বর্ণনা দেন তিনি । ডাক্তার মােহাম্মদ আনিসুর রহমান যিনি একজন প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা তরুণদের এই উদ্যাগকে সব সময় পাশে থেকে সহযােগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।তিনি জানান, কাপাসিয়ায় মােট খামারির সংখ্যা ১৫২০। এদের মধ্যে প্রান্তিক খামারি ও রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে এবার সর্বমােট ৮৩৬০ টি কােরবানির গরু কাপাসিয়া উপজেলার জন্য হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে।এই উদ্যাুক্তাদের আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোমাংস প্রস্তুত করণ প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। অর্থাৎ স্টারয়ডহীন খাদ্য প্রস্তুত করে প্রাকৃতিক ভাবে পশু খাদ্য প্রস্তুত করতে উৎসাহিত করছি।

যার ফলে খামারিরাও লাভবান হয়েছেন এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমে এসেছে। তবে মহামারী করানা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর কারণে আসন্ন কােরবানির ঈদকে সামনে রেখ খামারিরা কিছুটা আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আতঙ্ক দূর করার জন্য আমরা উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস এবং খামারিদের সমম্বয় করে একটি অনলাইন বিক্রয়ের প্লাটফর্ম তৈরি করে ফেলেছি। যা ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে বলে আমরা জানেত পেরেছি। হ্যান্ডশেক এগ্রা প্রাইভেট লিমিটেড এর অন্যতম উদ্যাক্তা পরিচালক কর্মজীবী মাহফুজুর রহমান মামুন জানায় আমাদের স্থানীয় যুবকদের সাথে নিয়ে আমিষের চাহিদা পূরণ করার জন্য স্বাস্যসম্মত মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবং গাজীপুর জেলা তথা দেশের অন্যতম একটি স্বনামধন্য মাংস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে আত্মপ্রকাশ করাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রুবেল আরও জানান, ভবিষ্যতে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। ইতিমধ্যে যাহারা আমাদের কাছে পরামর্শের জন্য আসেন তাদের জন্যে আমরা নিয়মিত ভাবে বৈঠকের আয়াজন করে থাকি। এর প্রভাব ইতিমধ্য সারা উপজেলার খামারিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। উদাহরণ স্বরুপ ইকুরিয়া গ্রামে দুটি গরুর খামার সৃষ্টি হয়েছে পাশাপাশি একটি মহিষের খামারও তৈরি হয়েছে। আমাদের উদ্যাুক্তা কমিউনিটির মধ্যে একটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি যা হচ্ছে “নিরবপদ মাংস উৎপাদনে পথিকৃত”।

এই মূলমন্ত্রকে সবার সামনে তুলে ধরে আমাদের এই প্রচেষ্টাকে বর্তমান সময়ের প্রান্তিক খামারীদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করতে চাচ্ছি।এই এলাকাটিকে হৃষ্টপুষ্ট গরু খামারের বৃহৎ একটি এলাকায় রুপদানের প্রচেষ্টায় রয়েছি।তারই ধারাবাহিকাতায় এবছরে আমারা অনলাইন ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ আশেপাশের এলাকা থেকে আসা ক্রেতাদের মাঝে আমাদের ২০ টিরও অধিক কােরবানীর গরু বিক্রি হয়ে গেছে। শহরের ক্রেতাদের সুবিধার্থে তাদের কেনা গরু আমরা কােরবানীর আগেরদিন পৌছে দেবার ব্যবস্থা রেখেছি। যাতে করে কােরবানীর পশু রাখতে বা পালন করতে ক্রেতাদের কােন সমস্যায় পড়তে না হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।