নিয়ামতপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, পুলিশের সহায়তায় জমি দখল, দুই লক্ষাধিক টাকার গাছ কর্তন

নিয়ামতপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, পুলিশের সহায়তায় জমি দখল, দুই লক্ষাধিক টাকার গাছ কর্তন




নওগাঁর নিয়ামতপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজতে রেখে পুলিশের সহযোগিতায় জমি দখল, রাতের অন্ধকারে আসামী গ্রেফতারের নামে বাড়ীর দরজা ভাংচুর ও ঘুমন্ত মানুষদের জোর পূর্বক ডেকে তুলে লাঞ্ছিত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের কুন্তইল গ্রামের মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে আব্দুস সাফি ও আব্দুল বারিক এর সাথে একই গ্রামের আব্দুল ওহাব মন্ডলের ছেলে আব্দুল হান্নান, হেলাল উদ্দিন (৩০), আব্দুল মান্নান (৫২) এবং বেলাল উদ্দিন (৩৮) এর সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক দ্ব›দ্ব চলে আসছে।

তারই জেরে গত ১ ফেরুয়ারী আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে একই গ্রামের মোঃ আব্দুস সাফি মন্ডলের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০) ও মোঃ জামাল (৩২), আব্দুল বারিকের ছেলে মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (২৫), মৃত- মোজাফফর মন্ডলের ছেলে মোঃ আব্দুস সাফি (৬২) ও আব্দুল বারিক (৫৯) এর বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানায় একটি মিথ্যো মামলা দায়ের করে। সেই মিথ্যে মামলার কারণে নিয়ামতপুর থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) দুরুল হুদা (বর্তমানে অভিযোগের কারণে থানা থেকে ক্লোজ) এর নেতৃত্বে পুলিশ রাতের অন্ধকারে গত ৮ জুন মোঃ আব্দুস সাফির ও আব্দুল বারিকের বাড়ীর প্রাচীরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে প্রতিটি ঘর তল্লাশি করে এবং আব্দুস সাফিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পুলিশকে বাড়ী ঘেরাও করে সহযোগিতা করে গ্লোরী ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনীরা।

এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুন্তইল মৌজায় আব্দুস সাফির নিজ নামে জারিকৃত প্রস্তাবিত ১৮৭ নং খতিয়ানের হাল দাগ ১৩১ এর ৯৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশ এর মধ্যে ১৬ শতাংশ জমিতে আব্দুস সাফির প্রতিপক্ষ আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে গ্লোরী ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ এর ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনীদের নিয়ে বেড়া লাগায়। আব্দুস সাফির ছেলে শহিদুল ইসলাম ও মোঃ জামাল বাধা দিতে গেলে তাদের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী দিয়ে জমি দখল করে এবং আব্দুস সাফির লাগানো ১২টি আমগাছ এবং কাঠের ১৫টি গাছ (যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষাধিক টাকা) কেটে ফেলে। জায়গাটি জোরপূর্বক দখলের জন্য গ্লোরী ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর কিছু পোষা গুন্ডা বাহিনীদের ব্যবহার করে ইটের প্রাচীর দেয় এবং গ্লোরী ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর লোকেরা সার্বক্ষনিক পাহারায় থাকে।

আরো জানা যায়, কুন্তইল গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে আব্দুল হান্নান জমির মালিকানা দাবীদার আব্দুস সাফি ও তার ছেলে শহিদুল ইসলাম, মোঃ জামালের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে বাড়ী ছাড়া করে আব্দুস সাফিকে গ্রেফতার করিয়ে জায়গা দখল করে আব্দুল হান্নান বাহিনীরা ঘর নির্মান করে। জমিটি পূর্ব পুরুষের যৌথ মালিকানাধীন। বিবাদমান জমিটি একই মৌজার এবং একই খতিয়ানভুক্ত জমি। জমির পরিমান ৭ একর ১০।

আব্দুস সাফির ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, বিবাদমান হাল ৯০ নং খতিয়ানে একাধিক দাগ রয়েছে। কিন্তু খতিয়ানের অংশ মোতাবেক যে পরিমান জমি পাবার কথা সে পরিমান জমি পূরণ পাবার পরেও এতবছর পর দখলকৃত সম্পত্তি প্রতিপক্ষের লোকজন গায়ের জোরে মোট জমির মধ্য হতে ১৬ শতাংশ জমি দখলে নেয়। সেকারণেই মূলত এই দ্ব›েদ্বর কারণ। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় সালিশ দরবার হয়েছে। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। জমিটি প্রায় শতাধিক বছর পূর্ব থেকে আমাদের বাপ দাদার বাড়ী ভিটার দখল পজিশন হওয়ায় স্থানীয় মাতব্বররা জমিটির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইনগত মতামতের ভিত্তিতে বরাবরই জমিটি আমাদের দখলে দিয়ে যান। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আমাদের বাড়ীর সামনের জমিতে লাগানো ফলজ এবং বনজ গাছ অন্যায়ভাবে কেটে বেড়া লাগানোর পাশাপাশি জোরপূর্বক ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখার চেষ্টা করে। যা প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়।

শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে আরো বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ, না আছে টাকা, না আছে লোকবল। আমাদের প্রতিপক্ষরা অনেক টাকার মালিক। তারা টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে নিয়ে আসে, পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে আমাদের উপর এমন অন্যায় অত্যাচার করে। তারা প্রতি নিয়ত আমাদের উপর অন্যায় অত্যাচার করে আসছে। অকথ্যভাষায় গালিগালাজ, প্রাণ নাশের হুমকি অব্যাহত আছেই। আমরা বর্তমানে তাদের অত্যাচারে এবং পুলিশি হয়রানির কারণে বাড়ী ছাড়া। আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির জানান, মামলটি আদালতে তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতই ঠিক করবে মামলার বিষয়টি।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।