বগুড়ার শিবগঞ্জে দিন দিন কচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের




বগুড়ার শিবগঞ্জে চলতি মৌসুমে কচু চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক। মুখি কচু চাষে কোনো ঝুঁকি নেই। কৃষক জমিতে মুখী কচু রোপন করে তুলনামূলক কম সময়ে বিক্রি করতে পারে। মুখি কচু চাষে উৎপাদন খরচ খুব কম। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সহযোগিতায় উপজেলায় তিন ধরনের জাতের কচু চাষ হচ্ছে ৩’শ হেক্টর জমিতে। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মোজাহিদ সরকার এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মুখিকচু হিসেবে পরিচিত স্থানীয়ভাবে লতিরাজ জাতের কচু অনেকের কাছেই প্রিয় সবজি হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধি ও ভাল বাজারমূল্য পাওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাসহ এ অঞ্চলের কচুচাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় উপযুক্ত ভূমি, উপকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় কচুর চাষ ভাল হয়েছে। শ্রমিক, যত্ন ও চাষাবাদে স্বল্প ব্যয় হওয়ায় অনেক কৃষক কচুচাষকে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণ করেছেন। কম উৎপাদন খরচ ও ভালো মুনাফার কারণে শিবগঞ্জ উপজেলায় বাড়ছে মুখিকচুর চাষ। ধান উৎপাদনে খরচ ও ঝুঁকি বেশি কিন্তু লাভ কম। এ অঞ্চলে সাদা ও লাল রংয়ের কচুসহ বিভিন্ন জাতের কচুর চাষ করেন কৃষক। প্রায় সব জাতের কচুই পানি মগ্ন এলাকায় জন্মে থাকে। ধান চাষের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কচু চাষে খুব অল্প পরিচর্যা লাগে। তাই এর চাষে ঝুঁকিও কম। সে কারনে কম খরচে ঝুঁকি ছাড়ায় আগাম মুখি কচু চাষ করে লভাবান হচ্ছে কৃষক।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কচুকন্দ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং দুই/তিন মাস পর এই দাম আরও বারবে হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যান্য সবজির চেয়ে কচুর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এর চাহিদাও বাড়ছে। এতে কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। গরু, ছাগল কচু গাছ খায় না এবং তা দেখাশোনার জন্য কোন শ্রমিকেরও প্রয়োজন হয় না। মুখি কচু চাষে কোনো ঝুঁকি নেই। কৃষক জমিতে মুখী কচু রোপন করে তুলনা মূলক কম সময়ে বিক্রি করতে পারে। মুখি কচ চাষে উৎপাদন খরচ খুব কম। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কৃষক জৈব (গোবর) সার ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ কম হবে। জানুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে লতিরাজ জাতের কচু পাওয়া যায়। এই কচু চাষ মধ্য এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে মধ্য ডিসেম্বর ৮ মাস পর্যন্ত চলে। প্রতি বিঘা জমি হতে ৮০ থেকে একশো মণ পর্যন্ত কচু উৎপাদন হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মোজাহিদ সরকার আরও বলেন, বর্তমানে এ উপজেলায় কচু চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কচু পরিবেশ-বান্ধব, বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর শস্য। কৃষি বিভাগ কৃষকদের উচ্চ ফলনজাতের কচু চাষের জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।