৩০ জুলাই পবিত্র হজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ২১ জুলাই ২০২০




সোমবার (২০ জুলাই) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আরবি জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। বুধবার থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে।

সে হিসেবে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ ৩০ জুলাই পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত এবং ১০ জিলহজ অর্থাৎ ৩১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে শুধুমাত্র সৌদি আরবে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের অধিবাসী ও দেশটির নাগরিকদের সমন্বয়ে দশ হাজার মানুষ এবার হজপালন করবেন। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ হজপালন করেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার মাত্র দশ হাজার মানুষ হজপালন করবেন। তার পরও প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের কমতি নেই সৌদি কর্তৃপক্ষের। ইতোমধ্যে মিনা টাওয়ার, আরাফাত ও মুজদালিফা প্রস্তুত করা হয়েছে হাজিদের জন্য।

৮ জিলহজ থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, চলবে ৫ দিন।

হজের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোববার (১৯ জুলাই) ভোর থেকে মাশায়েরে মোকাদ্দাসায় (হজের বিধি-বিধান পালনের বিশেষ স্থানসমূহ) প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব স্থানে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে তাকে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সড়কে টহল দিচ্ছেন।

হজ একটি ফরজ ইবাদত। সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের জন্য জীবনে একবার হজপালন ফরজ। হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে- ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় ও রাতযাপন। এটা সুন্নত আমল। ৯ জিলহজ আরাফাতে অবস্থান করা ফরজ। ওইদিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা এবং মুজদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ এক আজানে দুই ইকামতে আদায় করা। মুজদালিফায় অবস্থান ওয়াজিব। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে মিনায় পৌঁছে বড় শয়তানের প্রতি ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা। তামাত্তু বা কিরান হাজি হলে হজের কোরবানি আদায় করা। মাথা মুণ্ডানো ও ইহরামমুক্ত হওয়া। ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে মক্কায় যেয়ে (হজের ফরজ তথা রুকন) তাওয়াফে জিয়ারত করা।

১১ জিলহজ সূর্য দুপুরে পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়লে প্রথমে ছোট তারপর মেজ অতঃপর বড় শয়তানের প্রতি ৭টি করে পরপর ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। ১০ ও ১১ জিলহজ দিবাগত রাত মিনায় অবস্থান করা সুন্নত।

১২ জিলহজ সূর্য দুপুরে পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়লে ১১ জিলহজের নিয়মে তিন শয়তানের প্রতি ২১টি পাথর নিক্ষেপ করে মক্কা মোকাররমার উদ্দেশে সূর্যাস্তের আগে মিনার সীমানা ত্যাগ করা। ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ১৩ জিলহজ ১১ ও ১২ জিলহজের মতো তিন শয়তানের প্রতি ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করে মিনা ত্যাগ করা সুন্নত। কিন্তু ১২ জিলহজ মিনা ত্যাগ করা প্রচলন হয়ে গেছে। অতএব হজের কার্যক্রমে ১৩ তারিখের কথা তেমন আসে না।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।