কেশবপুরে বিষমুক্ত সবজি চাষে “সেক্স ফেরোমিন ফাঁদ” কৃষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:০৫ অপরাহ্ণ, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০




কেশবপুরে কৃষি অফিসের পরামর্শে বিষমুক্ত সবজি চাষে “সেক্স ফেরোমিন ফাঁদ ” ব্যবহারে সাফল্যের মুখ দেখেছে গ্রামাঞ্চলের ২ শতাধিক চাষীরা। অধিক ফলন ও লাভের আশায় গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ চাষীরা কুমড়া চাষ পদ্ধতির দিকে ঝুকে পড়েছে।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। আর এই কৃষি কাজের মধ্যে সবজি চাষ গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সংসারের তাগিদে উপজেলার প্রায় ৭০% থেকে ৮০% মানুষ এই সবজি চাষের সাথে জড়িয়ে আছে। কেশবপুরের পূর্বঞ্চল নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকা হওয়ায় কেশবপুরের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে এই সবজির চাষ বেশী। তাছাড়া খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় আনেক কৃষকরা এই সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এদিকে বাপ-দাদার রেওয়াজ ধরে রাখতে গ্রামাঞ্চলের অনেক কৃষকরা শত প্রতিকুলতার মধ্যেও সবজির আবাদ ধরে রেখেছে।

এদিকে প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর ধরে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বাগদা- মজিদপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক কৃষক বিষমুক্ত সবজি চাষে “ সেক্স ফেরোমন ফাঁদ” ব্যবহার করে সাফল্য দেখিয়েছেন। মজিদপুর ইউনিয়নসহ পাশাপাশি অনেক ইউনিয়নে র কৃষকরা তাদের এই সফলতা দেখে তারাও “ সেক্স ফেরোমন ফাঁদ” ব্যবহার করে জমিতে কুমড়ার আবাদ শুরু করে দিয়েছে। উপজেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় মজিদপুর ইউনিয়নে এই সবজি চাষীর সংথ্যা বেশী। শুধুমাত্র মজিদপুর ও বাগদাহ গ্রামের প্রায় দু’শতাধিক কৃষক প্রায় ১৭০ বিঘা জমিতে নিজ উদ্যোগে মাচা পদ্ধতির কুমড়া চাষে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে আসছে।

বাগদা গ্রামের কৃষক মশিয়ার গাজী ও সাঈদ মোড়ল জানান, তারা গত ৪ বছর ধরে মাচা পদ্ধতিতে কুমড়ার আবাদ করে আসছেন। এ পদ্ধতির আবাদ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কুমড়া চাষের ক্ষেতে উচ্চ মূল্যের কীটনাশক ব্যবহারের পরও ক্ষতিকর পোকা দমনে ব্যর্থ হয়ে যখন এ ফসল আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন ঠিক এমন এক অবস্থায় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে কুমড়া ক্ষেতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিঘা প্রতি ১০/১২ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ থেকে ৭০ মণ ফলন পেয়েছেন। যার মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তবে এ উপজেলায় সবজি সংরক্ষণে কোনো কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন বলে কৃষকরা দাবি করেন। পরিচয় ঘটানোসহ নতুন প্রযুক্তি চাষিদের মাধ্যমে মাঠে বাস্তবায়ন করা। সাধারণত কুমড়া রোপণের ৪৫ দিনেই ফল আসা শুরু হয় এবং ৯০ দিনেই কৃষকের ঘরে ওঠে। এ পদ্ধতিতে খরচ কম, ফলন বেশি পাওয়া যায়। সেক্স ফেরোমন ফাঁদ হলো স্ত্রী মাছি পোকার গায়ের গন্ধের অনুরূপ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো, মাচা পদ্ধতির কুমড়ার আবাদ স¤প্রসারণ, কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি, উন্নত জাতের সঙ্গে জৈবিক পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি টোপ (লিয়র)। যা পোকার যৌন মিলনের জন্য পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ফাঁদের সাবান মিশ্রিত পানিতে পড়ে মারা যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।