কেশবপুরে আমণ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা; ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০৬ অপরাহ্ণ, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০




কেশবপুরে আমণ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষকরা তাদের আগত রোপণ করা আমণ ধান কেটে ঘরে তুলেছে বলে দেখা গেছে।

এসব কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সহযোগিতা করছে। প্রাকৃতিকভাবে কোন দুর্যোগ না হলে দেড় দু’মাস পরে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের পুরোদমে কাটা শুরু করবে সেই সাথে সুন্দর পরিবেশে কাটা ধান ঘরে তুলতে পারবে বলে কৃষকরা জানিয়েছে। সময় মত সার, কীটনাশক, ডিজেল ও সঠিক পরিচর্যা করার ফলে ধানের চারা কালো আর সবুজ রং ধারণ করেছে। মাঠের চারিদিকে ধান আর ধান দেখা গেছে। আমণ মৌসুমের ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা মাঠের আবাদী জমিতে আমণ ধানের চারা রোপন করেছে। কেশবপুরের পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ জমি মৎস ঘেরের আওতায় থাকার কারনে এই অঞ্চলের সীমিত উঁচু জমিতে আমণ চাষ হলেও উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ জমি আমণ ধান চাষ শুরু করেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে এখনো পর্যন্ত কৃষকদের মাঠে আমণ ধান রোপণ করতে দেখা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি আমণ ধান মৌসুমে এ উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমণ ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। জমিতে আমণ ধান চাষ করার জন্য ৪ হাজার হেক্টর বীজতলা তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া ভালো ও জমিতে পানি সেচ দিতে হয়নি যার কারণে অতিরিক্ত টাকা খরচ হবে না কৃষকদের। এ বছর বীজতলায় ধানের চারা নষ্ট হওয়ার কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি। কৃষকরা আমণ ধান হিসেবে ব্রি ধান ৪৯, বিনা ধান ৭, ব্রি ধান ৩৪ ও অল্প সংখ্যক জামিতে কাটারি ভোগ জাতের ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপন করেছেন কৃষকরা।

সরোজমিনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে দেখা গেছে, গুড় গুড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কৃষকরা আমণ ধান রোপনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছিল। এ উপজেলায় প্রতি বছর আমণ ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা হলেও কেশবপুরে এখনও তেমন পরিস্থিতি না হওয়ায় কৃষকরা কোমর বেঁধে পুরাদমে মাঠে নেমে পড়েন আমণ ধান রোপনের কাজে। এ বছর অনেক কৃষকরা তাদের লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী জমি রোপন করেও চারা বিক্রয় করতে পারবে বলে এলাকার কৃষকরা জানিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে বীজতলা তৈরী করায় চারা ভাল হওয়ায় সুন্দর ভাবে কৃষকরা তাদের জমিতে আমণ ধান রোপন করতে পারছে। এ ছাড়াও যে কোন সমস্যা সমাধানে কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে কোন দুর্যোগ না হলে যথা সময়ে কৃষকরা তাদের মাঠের ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।