কেশবপুরের ত্রিমোহিনী কপোতাক্ষনদের উপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৩৫ অপরাহ্ণ, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০




কেশবপুর উপজেলা ও সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কপোতাক্ষ নদের উপর ঝুকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দুরত্ব কম হওয়ার কারনে মানুষ চলাচলের জন্য সাঁকো বেছে নিয়েছিল। সাঁকোর উপর নির্ভর করে কেশবপুর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা কলারোয়া এলাকার ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু সাঁকোটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসি অবিলম্বে কপোতাক্ষ নদের উপর একটি ব্রিজ নির্মানের দাবি জানিয়েছেন।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি নির্মিত হলে কেশবপুর ও কলারোয়া উপজেলার লোকজনের জীবনযাত্রা পাল্টে যাবে। সাাঁকোর পশ্চিম পাশর লোকজনদের ঝুকি নিয়ে কেশবপুর কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ব্যাংকসহ অসংখ্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। কেশবপুরে তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রও রয়েছে। মধুকবির জন্মবার্ষিকি প্রতি বছর ২৫ জানুয়ারি সপ্তাহব্যাপী সরকারিভাবে উদ্যাপন হয়। ওই সময় সাঁকো দিয়ে হাজার হাজার লোকজন পার হয় জাতীয় মেলা উপভোগ করার জন্য। মেলা উপভোগ করতে এসে দূর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ত্রিমোহিনী এলাকার কপোতাক্ষ নদের উপর সাঁকোটি ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। একটি ব্রিজ নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ না থাকায় মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে ঝুকিপূর্ণ সাঁকোর উপর দিয়ে কারোর কাঁদে বেগুনের খাচি, কারোর মাথায় সবজি, কারোর কাদে ধান, পাট। ওই এলাকার কৃষক অসীম দাস, আব্দুল হালিম, আব্দুল কুদ্দুস, হায়দার আলী, শরিফুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, তরিকুল ইসলাম, জবান আলী, ইউনুস আলী, নজরুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, তরিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, রমজান আলী বলেন, ব্রিজ না থাকায় যানবহনের অভাবে কাঁদে ও মাথায় করে সবজি, ধান, পাট নিয়ে ত্রিমোহিনী ও কেশবপুর বাজারে যেতে বাধ্য হন।তাছাড়া বর্ষা মৗসুমে এলাকার স্কুল, কলেজ গুলোতে আসতে হয় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সাঁকোর উপর দিয়ে।

এলাকাবাসী আরও জানান, তাদের স্বার্থে প্রতিবছর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই বাঁশের সাঁকোটি সংস্কার করে থাকেন। বিকল্প রাস্তা হিসেবে যা আছে দূরত্বের কারনে তা মুমুর্ষ রোগীর জন্য সঠিক স্থানে পৌছানো সম্ভব না। এমন দূর্ভোগ থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী কপোতাক্ষ নদের দুই পাড়ের মানুষ সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। মধুকবির স্বপ্নের কপোতাক্ষ নদের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে কেশবপুরে সকল প্রতিষ্ঠানসহ বাজারটিও উন্নত হত। কেশবপুর ও কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন পেশার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। এমন দূর্ভোগ থেকে বাঁচতে ভূক্তভোগী কপোতাক্ষ নদের দুই পাড়ের মানুষ সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যের দৃষ্টি কামনা করেছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।

উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, সাঁকোটি ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। সাঁকোর পরিবর্তে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে মানুষের দুর্ভোগ কমতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি’র সাথে আলোচনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।