ফাইভজির বাজার: এক দশকে আকার ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে

প্রভাতী নিউজ ডেস্ক:প্রভাতী নিউজ ডেস্ক:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:১৪ পূর্বাহ্ণ, ২৩ নভেম্বর ২০২০




বিশ্বজুড়ে ফাইভজি মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ বাজারগুলোয় ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে বেশ আগেই। আগামী এক দশকে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ফাইভজির বাজারের আকার ৩১ লাখ কোটি (৩১ ট্রিলিয়ন) ডলারে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার্স (সিএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ফাইভজির বাজারের আকার প্রবৃদ্ধি ঘটবে। সুইডেনভিত্তিক টেলিযোগাযোগ গিয়ার নির্মাতা এরিকসনের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। খবর ইটি টেলিকম।

কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর বিপর্যয় নেমে এসেছে শিল্প উৎপাদন, আমদানি-রফতানি থেকে শুরু করে ভোক্তা চাহিদায়। এর বিপরীতে কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে টেলিযোগাযোগ খাত। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত টেলিযোগাযোগ খাতের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অপরিবর্তনীয় থাকবে এবং ফাইভজির বিস্তার কিছুটা বিলম্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এরিকসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী এক দশকে ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবসা বিভাগ এককভাবে সিএসপিগুলোর জন্য ১৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। ফাইভজি সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবসায় উল্লম্ফন দেখা যাবে। ডিজিটাল সার্ভিস ব্যবসা বিভাগ থেকে সিএসপিগুলোর আসা মোট রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ আসবে ভিডিও, অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর), ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) এবং ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় ক্লাউড গেমিংয়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়।

বর্তমানে এশিয়া প্যাসিফিক টেলিযোগাযোগ খাতের গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালের আগ পর্যন্ত এ অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধিতে খুব একটা উল্লম্ফন দেখা যাবে না। তবে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট চলমান কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে এ অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ খাতের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যে কারণে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল বা কিছুটা কমলেও অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।

ফিচ রেটিংসের সাম্প্রতিক এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভয়াবহ কভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে তাদের পোর্টফোলিওতে থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের প্রক্ষেপণ স্থিতিশীল রয়েছে। আর পোর্টফোলিওতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ছয়টি নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। যদিও এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন পাবে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে যাওয়ার তেমন কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামীতে প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠানের সমর্থন ছাড়াও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি এড়াতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পকালের জন্য জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ, মূলধনি ব্যয় কমানো ও ব্যবস্থাপনা, ফাইভজি মূলধনি ব্যয় কমানো এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ কমিয়ে দেয়া। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যালান্সশিটকে দৃঢ় অবস্থানে রাখতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, চলমান মহামারীর মধ্যে ফাইভজি বিস্তার ও উন্মোচনের ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো। এর একটি হলো ফাইভজি উন্মোচন কিছু সময়ের জন্য বিলম্বিত করা। এটি করে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নগদ অর্থ অন্যান্য জরুরি খাতের অর্থায়নে ব্যবহার করতে পারে। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে এশিয়া প্যাসিফিকের অধিকাংশ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান। যদিও কোরিয়া, চীন ও সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত বাজারগুলো চলতি বছরই ফাইভজি সর্বত্র চালুর বিষয়ে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তি বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য ও নেতৃত্ব ধরে রাখতে প্রযুক্তির বিকাশের জন্য দ্রুত কাজ করতে চায় এসব দেশ।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর মহামারীর প্রভাব নির্ভর করছে মূলত স্থানীয় বাজারগুলোতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভে লকডাউন কতটা তীব্র হয় তার ওপর। এর মধ্যে কোরিয়ান টেলিকম খাত এবং ইন্দোনেশিয়ার নেটওয়ার্ক খাত রাজস্ব আহরণের দিক থেকে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের অর্থনীতির প্রায় পুরোটা পর্যটন খাতনির্ভর এবং ফিলিপাইনের রেমিট্যান্সনির্ভর হওয়ায় দেশ দুটোর স্থানীয় বাজারে টেলিযোগাযোগ খাত ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা সময় নেবে।

গত জুনে বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এমটিএন কনসাল্টিংয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সেলফোন অপারেটরগুলোর মূলধনি ব্যয় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৭ হাজার ২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই প্রান্তিকে অপারেটরগুলোর রাজস্ব ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪৪ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।