ফুটবলের কিংবদন্তি ম্যারাডোনা আর নেই

আজ বুধবার (২৫ নভেম্বর) নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ম্যারাডোনার আইনজীবী এব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।

ক্রীড়া ডেস্ক:ক্রীড়া ডেস্ক:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:২১ অপরাহ্ণ, ২৫ নভেম্বর ২০২০




কিংবদন্তি ফুটবল তারকা ডিয়াগো ম্যারাডোনা মারা গেছেন। অথচ কদিন আগেই গত ৩০ অক্টোবর নিজের ৬০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন।

বিশ্ব ফুটবলের এই মহানায়ক দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে স্ট্রোকের শিকার হন। ওই সময় তার অস্ত্রোপাচার করাও হয়। এরপর থেকে তিনি নিজ বাসভবনেই ছিলেন।

আজ বুধবার (২৫ নভেম্বর) সেখানেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ম্যারাডোনার আইনজীবী এব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।

ম্যারাডোনার জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল তাকে ঘিরে নানা তর্ক-বিতর্ক। ফুটবলের মাঠে অবশ্য তিনি সর্বকালের সবচেয়ে অনবদ্য এক খেলোয়ার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু, ক্রীড়াজগতের বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম হইচই হয়নি। মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তি তার ক্যারিয়ারে বিরতি আনে। তারপরও, ভক্তদের হৃদয়ে ম্যারাডোনার আসন ছিল অটুট।

আজ সব খ্যাতি আর সমালোচনার ঊর্দ্ধে পাড়ি জমালেন এ মহাতারকা।

খেলোয়াড় হিসেবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে জয়। ওই টুর্নামেন্টেই তিনি ‘ঈশ্বরের হাত খ্যাত’ সেই বিখ্যাত গোলটি করেন।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত গোল। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ পর্ব শেষ হয় ইংল্যান্ডের। ছবি: ডেইলি মেইল

ইতালিয়ান লীগে নেপোলি ক্লাবের হয়েও বিস্ময় দেখিয়েছেন। ১৯৮৭ ও ১৯৯০ সালে তার পারফরম্যান্সের সুবাদেই সিরি-এ শিরোপা জেতে ক্লাবটি। ১৯৮৭ সালের ইতালিয়ান কাপ আর ১৯৮৯ সালের উয়েফা কাপ জেতার ধারাবাহিকতাতেও ছিল তার অবদান।

ক্যারিয়ারের এই শীর্ষ সময়েই তিনি কোকেনে আসক্তিতে জরিয়ে পড়েন। ফলে ১৯৯১ সালে তাকে ক্লাবটি ছাড়তে হয়। তারপর টানা ১৫ মাস তাকে মাদক গ্রহণের দায়ে নিষিদ্ধ করা হয়।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপেও মাদক টেস্টে পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর ম্যারাডোনা বাদ পড়ে যান। তারপর ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

আজ বুধবার আর্জেন্টিনা সময় দুপুরে সর্বপ্রথম ফুটবল বরপুত্রের মৃত্যুর কথা জানায় দেশটির গণমাধ্যম- ক্লারিন। ওই সংবাদে ম্যারাডোনার মৃত্যু পুরো বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসবে বলে জানানো হয়।

এরপরই শোক সংবাদটি সম্পর্কে এক বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেন ম্যারাডোনার আইনজীবী। এঘটনা জানার পর থেকে ফুটবল জগতের সবাই তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

ইতোপূর্বে, ব্রেইন সার্জারির আটদিন পর গত ১১ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ম্যারাডোনা। অলিভোস ক্লিনিক নামে বেসরকারি হাসপাতালটি ত্যাগ করে বাড়ি ফেরার সময় হাজারো ভক্ত তাকে এক ঝলক দেখার জন্য অপেক্ষা করেছিল। ভক্তদের এই ভালোবাসায় আর সাড়া দিতে পারবেন না এই কিংবদন্তি। সকলকে শোকাকুল করে তিনি মরণের অজানা জগতেই পাড়ি জমালেন।

  • সূত্র: ডেইলি মেইল

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।