জনবল সংকটেও পাল্টে গেছে তানোর ভূমি অফিসের দৃশ্যপট




পাল্টে গেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের দৃশ্যপট। ছিমছাম অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশ। দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নেই। লোকজন আসছেন, কাজ সারছেন যথারীতি বিদায় নিচ্ছেন। কোনো হয়রানি বা ভোগান্তি নেই। বেড়েছে সেবার মান। আজ (২৫ নভেম্বর) বুধবার দুপুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ল। অফিসের সামনে বাড়টি লোকজনের আনাগোনা নেই। কেমন যেন শূন্যতা মনে হল। একটু এগিয়ে সহকারী কমিশনারের কক্ষে প্রবেশ করলাম। সেখানেও আগের তুলনায় সাজসজ্জার মাত্রাটা যেন পাল্টে গেছে। সবকিছুতেই সাজানো গোছানো পরিবেশ।

এই ভূমি অফিসে তৎকালিন এসিল্যান্ডের সময়ে কর্মকর্তার সামনে অনেক লোককে তদ্বিরের জন্য বসে থাকতে দেখা যেত। সেখানেও একটু বদলের হাওয়া। অফিস সহকারীরা ডিজিটাল ই-সেবায় কম্পিউটারে কাজ করছেন। আর সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) স্বীকৃতি প্রামানিক বিভিন্ন ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করার কাজে মনোযোগী। দরজায় দাঁড়িয়ে অফিস সহায়ক এসিল্যান্ডের কক্ষে সেবা প্রার্থীদের নাম ধরে ডাকছেন।

এপ্রতিবেদক সালাম দিতেই বসতে বলে জিজ্ঞেস করলেন কী কাজে এসেছেন। এ সময় তার সঙ্গে অনেক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। ভূমি অফিসের বর্তমান ও অতীত নিয়ে কথা হয়। অতীতের অনেক কর্মকান্ডের অভিযোগ তুললে তিনি বলেন, শুনেছি তবে আমার সময়ে এমন কিছু ঘটেনি। অতীতে কিছু অনিয়ম থাকলেও এখন সবকিছুতেই শৃংখলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। চলতি ২০২০ সালের ২৮ জুলাই তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে যোগদান করেন স্বীকৃতি প্রামানিক। তিনি যোগদানের মাত্র সাড়ে ৩ মাসে অফিসের ভেতর ও বাইরে নানা জঞ্জালের জট খুলতে থাকে। বহিরাগতদের বিভিন্ন টেবিল চেয়ারে বসা বন্ধ হয়ে যায়। কমতে থাকে তদ্বির পার্টি ও দালালচক্রের তৎপরতা। যাদের হাতে বন্দি থাকত জমির মালিক ও মিস কেসের বাদী-বিবাদীর ফাইল।

জানা গেছে, নতুন এই ভূমি কর্মকর্তা যোগদানের পর অসাধু কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। অনেক ভূমি সহকারীই এখন সতর্ক হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তানোর উপজেলা আইন-শৃংখলা ও সমন্বয় কমিটির সভায় ভূমি সেবার প্রশংসা করা হয়। লোকসমাজে এমন প্রশংসায় স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র কর্মদক্ষতাকে স্বাগত জানিয়ে জনগণের সেবার মান আরও বেশি উন্নয়নের তাগিদ দেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা অফিসে মঞ্জুরিকৃত বা কর্মরত পদ ১৪টি। এরমধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৯ জন। শূন্যপদ ৫টি। এছাড়া তিনটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মঞ্জুরিকৃত পদ ২৪টি। এরমধ্যে ৯ জন কর্মরত। ১৫ জন জনবল শূন্য। এতো বিপুল পরিমান জনবল সংকটেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মূলক ডিজিটাল ভূমি সেবায় কমতি নেই।

অফিসে চি‎হ্নিত দালাল ধরতে ও ঘুষ বন্ধ করতে বাইরে ও ঘরের ভিতরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। দালাল থেকে দূরে থাকতে অফিসের সামনে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে জমির মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও নিজের কাজে নিজেকে অফিসে আসতে ও সেবা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ওই অফিসের সার্টিফিকেট সহকারি (চলতি দায়িত্বে নাজির) শাহিনুর রহমান বলেন, স্বীকৃতি প্রামানিক স্যার আসার পর কাজের মান বেড়েছে। কমেছে স্থানীয় দালালদের দৌরাত্ম্য। অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসিল্যান্ড স্যারের কড়া নজদারিতে ঘুষ ছাড়াই ফাইলপত্র দেখভাল করায় কাজে স্বচ্ছতা এসেছে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো ভূমি অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে সপ্তাহে একদিন মিটিং-এ বসছেন। তার দিক নির্দেশনায় ভূমি অফিসে আগের যেকোন সময়ের তুলনায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও তদারকির পাশাপাশি রাজস্ব আয় বেড়েছে।

ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা জিওল গ্রামের কাউসার আলী জানান, তানোর ভূমি অফিস অনেক পরিচ্ছন্ন। সেবায় আমি মুগ্ধ। এছাড়া অফিসের সামনে মক্কেলদের বসার ছায়াবিথি নামের বসার স্থল। ফুলের বাগান ও এমন সুন্দর সাজসজ্জা ভূমি অফিস আগে কখনো দেখেন নি। বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বীকৃতি প্রামানিকের এমন কর্মদক্ষতা ও স্বচ্ছ কাজের প্রশংসা করেন তিনি।

তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সম্মানিত সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, ইউএনওসহ সবার সহযোগিতায় এ অফিসকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই তার লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।