বানিজ্যিক ভাবে হাইব্রিড সজিনার চাষ গোদাগাড়ীতে প্রথম




বানিজ্যিক ভাবে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীতেই প্রথম হাইব্রিড জাতের বারোমাসি সজিনা চাষ হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার ভাজনপুর (তিরিন্দা) গ্রামের রমেশ চন্দ্র মাহাতো তার ১ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে বানিজ্যিক ভাবে হাইব্রিড জাতের বারোমাসি সজিনা চাষ করেছে। তার ১ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে প্রায় ৬শ’ ২০ টি সজিনার গাছ রয়েছে।

ইংরেজীতে সজনার নাম ‘‘ড্রামস্ট্রিক’’ যার অর্থ ঢোলের লাঠি। সজিনার ইংরেজী নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে এটি নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে এ নিয়ে অনেক গবেষনা হয়েছে বিশেষ করে গাছ বৃদ্ধিকারক হরমোন, ঔষধ, কাগজ তৈরী ইত্যাদি বিষয়ে। বহু দিন হতেই আমাদের দেশে সজিনা সব্জির পাশাপাশি ঔষধ হিসেবে ব্যাবহার হয়ে আসছে। দেশের সবত্রই এ সবজিকে আমরা দেখতে পাই। বিশেষ করে গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসত বাড়ির আঙ্গিনায় যতœ ছাড়াই বেড়ে ওঠে এ বৃক্ষটি। সজিনার ফুল ও পাতা শুধু শাক হিসেবেই নয়, পশু খাদ্য হিবেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায় এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচির উন্নতি হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। এর ডাটা বা ফলে প্রচুর এমাইনো এসিড আছে। এটি বাতের রুগীদের জন্য ভাল। সজিনার ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভাল কারন এটি বসন্ত প্রতিষেধক। এটি সর্দি কাশিতে, যকৃতের কার্যকারীতায়, কৃমি প্রতিরোধে, শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকারীতা রয়েছে। হাই বøাড প্রেসার, টিউমার, ফোড়া, জ্বর, হিক্কা, অর্শ, দাঁদ ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধে কাজ করে সজিনার ফুল ও ডাটা।
সজিনার বীজ ও ডাল এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষাবাদের রীতি এখন ও পর্যন্ত অনুসরন করা হয় না। কারন বীজ থেকে চারা তৈরি ব্যয়বহুল, কষ্ঠসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আমাদের দেশে ডাল পুঁতে অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

কথা হয় সাজিনা চাষি রমেশ চন্দ্র মাহাতোর সাথে, তিনি বলেন ভারত থেকে এ হাইব্রিড জাতের সাজিনার বীজ সংগ্রহ করে সজিনা চাষ করেছি। বীজ থেকে চারা তৈরী করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখে জমিতে চারা লাগিয়েছি। ১ বিঘা জমিতে ৪৪০ টি চারা লাগানো যায়। ৫৫ দিনের মাথায় ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। প্রতি বিঘায় ২০ টন সজিনা উৎপাদন হবে।এক একটি সজিনার ডাটা ২ থেকে ২.৫ ফিট পযর্ন্ত লম্বা ও ওজন হয় ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রাম। তিনি আরো বলেন, জমিতে চারা লাগানোর সময় গর্তে শুধু গোবর সার দিয়েছি। প্রতি বিঘায় শ্রমিক, সেচ , বীজ, সারসহ খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা।

রমেশ চন্দ্র মাহাতো আরো বলেন, কয়েক দিন আগে স্কয়ার কোম্পানির প্রতিনিধি আমার সজিনার ক্ষেত দেখতে এসেছিল। আমার কাছে সজিনার পাতা প্রতি কেজী ৮শ’ টাকা করে কিনতে চাই। এখনো আমি পাতা বিক্রি করিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কেউ এসেছিল প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপ কৃষি সহকারী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান এসে পরার্মশ দিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উপ কৃষি সহকারী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, আমরা জানি সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সজিনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধী বৃক্ষও বটে। বানিজ্যিক উৎপাদন সন্বদ্ধে চিন্তা করি তবে অন্যান্য যে কোন সবজি উৎপাদনের থেকে এটি লাভজনক। কারন অন্যান্য সব্জির মত এর উৎপাদনে তেমন ঝুঁকি নেই খরচ কম এবং লাভজনক । সজিনা চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয়না। কারন সজিনার বিস্তৃত ও গভীর শিকড় রয়েছে। তবে ইউরিয়া এবং জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছ ভাল হয় । তিনি আরো বলেন, নতুন লাগানো গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে শীঘ্রই শিকড় গজাতে পারে। তবে সজনার গাছ একবার লেগে গেলে তেমন পানির প্রয়োজন হয় না। দো-আঁশ ও লাল মাটিতে সজিনা হয়। আমদের দেশের মাটি ও আবহাওয়া সজিনা চাষের উপযোগী।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।