রাজাপুরে জালিয়াতির মামলায় প্যানেল চেয়ারম্যান জেল হাজতে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:১৩ অপরাহ্ণ, ০৫ জানুয়ারি ২০২১
রাজাপুরে জালিয়াতির মামলায় প্যানেল চেয়ারম্যান জেল হাজতে




ঝালকাঠির রাজাপুরে চুরির মামলায় চেয়ারম্যানের সই জাল করে বাদীর পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করায় গালুয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শ ম রিয়াজ আহমেদ ওরফে শাহিনকে জেল হাজাতে পাঠিয়েছেন আদালতের বিচারক।

এ ঘটনায় বিচারাধীন মামলার বাদী হাবিবা বেগমকেও জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক এইচ এম ইমরানুর রহমান তাঁদের জেল হাজতে পাঠান। এর আগে বিকেলে ওই বিচারধীন মামলার বিচারক শেখ আনিসুজ্জামান তাঁদের দুজনকে আসামী করে একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মহসিন রাজা।

মামলার নালিশি সূত্রে জানা যায় , রাজাপুরের পুটিয়াখালী গ্রামের মাওলানা আবদুল হকের মেয়ে হাবিবা বেগম ২০১৮ সালে ০৯ জনকে আসামী করে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আসামীরা আদালত থেকে জামিন গ্রহণ করেন। আদালতের বিচারক শেখ আনিসুজ্জামান ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর গালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হককে মামলাটির তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হক সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সেই সুযোগে ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল চেয়ারম্যানের সই জাল করে প্যানেল চেয়ারম্যান শ ম রিয়াজ আহমেদ মামলার বাদী হাবিবা বেগমের সাথে যোগসাজসে আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরবর্তীতে স্বাক্ষর জালের বিষয়টি আসামীদের আইনজীবী সঞ্জিব কুমার বিশ্বাস আদালতের নজরে আনেন। চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হকও তাঁর স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান। আদালত উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে গতকাল সোমবার বিকেলে মামলার শুনানী শোনেন। আদালতের বিচারক চেয়ারম্যান মুজিবুল হক ও প্যানেল চেয়ারম্যান রিয়াজ আহমেদের স্বাক্ষর যাচাই করার জন্য একটি সাদা কাগজে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। সেখানে উভয়ের স্বাক্ষরের হাতের লেখায় কোন মিল খুজে পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে আদালতের বিচারক শেখ আনিসুজ্জামান প্যানেল চেয়ারম্যান শ ম রিয়াজ আহমেদ ও হাবিবা বেগমকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সন্ধ্যায় তাঁদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।

বাদী হাবিবা বেগমের আইনজীবী শামীম হোসেন আকন বলেন , আমার পক্ষ সম্পূর্ন নির্দোষ। আসামীরা তাঁর বসত বাড়ি ভঙচুর করে মালামাল চুরি করে এবং গরু ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। প্যানেল চেয়ারম্যান শ ম রিয়াজ আহমেদ চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের স্বাক্ষর নিয়েই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আসন্ন নির্বাচনে রিয়াজ আহমেদের ভাব মুর্তি নষ্ট করতেই চেয়ারম্যান মুজিবূল হক তাঁকে ফাসিয়েছেন

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।