লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশা আর শীতে জীবন সঙ্গী খড়কুটোর আগুন




লালমনিরহাট উত্তরাঞ্চল। তীব্র শীতে কাঁপছে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। ছিন্নমূল মানুষরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন। কাজ ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। কমে গেছে যানবাহন চলাচল। গত ৪/৫ দিন থেকে দেখা মিলছে না সূর্যের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম, ভোগান্তিতে আছে নিম্নআয়ের মানুষ। কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের কয়েক লাখ শীতার্ত মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। পরিবারগুলোতে শীতের পোশাক না থাকায় খড়কুটোর আগুনই ভরসা করে চলছে শীতার্ত দুস্থ মানুষ।

(২১শে জানুয়ারি)২০২১ইং গতকাল সারাদিনেও সূর্যের দেখা না পাওয়ায় বেড়েছে ঠাণ্ডার তীব্রতা। এতে কাবু হয়ে পড়েছে তিস্তা-ধরলাপাড়ের শিশু, বৃদ্ধ সবাই। তিস্তা-ধরলাপারের মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। গতকাল লালমনিরহাটের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৬ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ সুবল চন্দ্র রায়। মাঘের শুরু থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়ায় প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা ও সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন তারা। ঠাণ্ডার কারণে কাজের সন্ধানে ঘরের বাইরে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন খেটেখাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ।

একটু উষ্ণতা পাওয়ার আশায় গ্রামাঞ্চলের শীতবস্ত্রহীন মানুষ তাকিয়ে থাকছেন সূর্যের আলোর দিকে। সারাদিন ঠাণ্ডার তীব্রতার কারণে হাট-বাজারেও লোকসমাগম অনেকটাই কম। সতীপাড় গ্রামের আলী হোসেন জানান, কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে ঘর থেকে বেড় হওয়া যায় না।এদিকে প্রচুর শীত। এই এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। ঠাণ্ডায় কাজকর্ম না পেয়ে এই শীতের মৌসুমে তাদের কষ্ট বেড়ে গেছে।এক রিকশাচালকের সাথে কথা বলে যানাযায়, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর কুয়াশার জন্য সকাল থেকে রিকশা বের করার সাহস পাইনি। ঠাণ্ডার কারণে কোন কাজকর্ম করতে পারছি না। অনেক কষ্টে রাত কাটিয়েছি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।