কেশবপুরে ভূয়া প্রকল্পে পল্লী বিদ্যুতের শিল্প সংযোগ অনুমোদন সংঘর্ষের আশঙ্কা

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৯ অপরাহ্ণ, ২২ জানুয়ারি ২০২১




যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেশবপুরের হিজলতলা গ্রামে একটি ভূয়া মৎস্য খামারে শিল্প সংযোগ অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাইনটি নির্মাণে দু‘দফা বাধা দেয়ায় দু‘পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যে কোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি। এ ব্যাপারে হিজলতলা গ্রামের মুজিবর রহমান অবৈধ সংযোগটি বাতিলসহ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার হিজলতলা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী খানের ছেলে শফিকুল ইসলাম হিজলতলা বিলে তার মৎস্য খামারের জন্যে একটি শিল্প সংযোগের আবেদন করেন। গত নভেম্বরে সংযোগটির অনুমোদন দেয় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ। একাজের ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ঠিকাদার রফিকুল ইসলামকে। তিনি গত ৩১ ডিসেম্বর খুটি ও তার নিয়ে লাইনটি নির্মাণ করতে যান। এ সময় ওই গ্রামের মৃত মোজাহার আলীর ছেলে মুজিবর রহমানের বসতভিটা ও মাস্টার সিদ্দিকুর রহমানের বাঁশঝাড়ের ওপর দিয়ে লাইনটি চলে যাওয়ার কারণে তারা ক্ষতিগস্থ হওয়ার আশঙ্কায় সংযোগটি বন্ধের দাবি জানিয়ে কেশবপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম বরাবরে পৃথক দুটি আবেদন করেন। এ আবেদনের কোন গুরুত্ব না দিয়ে ওই ঠিকাদার গত ১২ জানুয়ারী জোরপূর্বক ৩টি খুটি পুতে লাইন নির্মাণের চেষ্টা করেন। অবশেষে মুজিবর রহমান কেশবপুর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের হস্তক্ষেপেএর নির্মাণ কাজটি বন্ধ হয়। এরপরও শফিকুল ইসলাম ওই ঠিকাদারকে দিয়ে জোর করে লাইন নির্মাণের হুমকিসহ ষড়যন্ত্র করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, শফিকুল ইসলাম হিজলতলা বিলে যে মাছের ঘের দেখিয়ে শিল্প সংযোগটির অনুমোদন নিয়েছেন তার বেড়ি, বাধ, ক্যানেল এমনকি মাছ চাষের কোন আলামতই নেই। মূলত তিনি সেখানে সদ্য রোপণ করা বোরো ধানে সেচ দেয়ার জন্যেই সংযোগটি নিতে প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। কিন্তু তিনি কোন সেচ প্রত্যায়নপত্র জমা দেননি। ফলে সংযোগটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আলমগীর কবির বলেন, তার দপ্তর থেকে ওই গ্রামের মাছের ঘেরে শিল্প সংযোগের জন্যে কেউ আবেদন করেনি। যদি সেখানে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয় তাহলে অবশ্যই সেচ প্রত্যায়ন নিতে হবে।

উপজেলা সহকারি কৃষি অফিসার মনির হোসেন বলেন, খাস জমির তদন্তে সরেজমিনে ওই মাছের ঘেরটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই সেচ প্রত্যায়নের ব্যাপারে তার দপ্তর কিছুই জানে না। ওই সংযোগটি অবৈধ। এ ব্যাপারে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কেশবপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল লতিফ জানান, ঠিকাদাররা কখন কাজ করেন তা তারা জানতে পারেন না। একারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। তবে ওই অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে ওয়ারিং ইন্সপেক্টরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।