কেশবপুরে সড়কে বেপরোয়া দাঁপিয়ে বেড়াছে নিষিদ্ধ ট্রাক্টর

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৩৬ অপরাহ্ণ, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১




কেশবপুরে নিষিদ্ধ ট্রাক্টরের দখলে সব ধরনের রাস্তা। ট্রাক্টরের দৌরাত্তে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে কাঁচা পাকা রাস্তা। এছাড়াও ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।উপজেলার গ্রামীণ সড়কে চলাচলকারী জনসাধারণ অবৈধ ট্রাক্টরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ মহাসড়কেও অবাধে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রাক্টর এখন অবৈধ ট্রাক বা পরিবহন হয়ে গ্রামীণ জনপদে সর্বনাশ ঘটাতে শুরু করেছে। বিরামহীন চলাচলে শব্দ দূষণেও আশপাশের গ্রামের মানুষ, রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ ও শিার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব অবৈধ যন্ত্রদানবের প্রতি নজর নেই উপজেলা প্রশাসনের।

জানা যায়, উপজেলার সবকটি ইট ভাটার ইট ও মাটি পরিবহনের কাজেই মূলত ব্যবহৃত হচ্ছে এসব ট্রাক্টর। এসব ট্রাক্টরের নেই কোন বৈধ রোড পার্মিট। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছরের শিশু-কিশোররাও এসব ট্রাক্টর অবাধে চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তাঘাট ধ্বংস করছেন গুটিকয়েক ইট ভাটার মালিক। তারা স্বল্প মূল্যে ফসলি জমির মাটি কিনে ভাটায় পরিবহনের ফলে বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট এবং ট্রাক্টরের চাকায় প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে গ্রামের সদ্য নির্মিত কাঁচা, আধা পাকা-পাকা সড়কগুলো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ যন্ত্রদানবের প্রতি স্থানীয় প্রশাসন উদাসীন কেন? এলাকার প্রভাবশালীদের খুঁটির জোরে এসব ট্রাক্টর চলছে বহাল তবিয়তে। সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাচ্ছে। কৃষি জমির উর্বর টপসয়েল কেটে ইট ভাটায় সরবরাহ ও পুকুর-দীঘিনালা ভরাট চলছে। ট্রাক্টরের অত্যাচারের মুখে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রোড পারমিশন বিহীন ট্রাক্টর ও লাইসেন্স বিহীন চালকের কারণে দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাটে চলাচলকারী মানুষ সার্বণিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে চলাচল করছে। বিকট শব্দে মাটি বোঝাই করে ধুলো উড়িয়ে চলছে এরা। এভাবেই কেশবপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের পাড়া মহল্লার সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তাসহ উপজেলার প্রত্যেক সংযুক্ত সড়কগুলোতেই দিন রাত চষে বেড়াচ্ছে অর্ধ শতাধিক অবৈধ ট্রাক্টর।

সাতবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এ গাড়ি চলাচলের সময় আশপাশের এলাকায় কুয়াশার মতো ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আর ধুলোর মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। অতি দ্রুত মানুষের জীবন অতিষ্ঠকারী এসব যন্ত্রদানব প্রতিরোধ করতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তপে কামনা করেছেন।

’কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, রাস্তায় মাটি ফেলার কারণে বৃষ্টিতে যাতে মানুষের চলাচলে সমস্যা না হয় তার জন্য মালিকদেরকে বলে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘তবে এরপরেও যদি তারা রাস্তায় মাটি ফেলে এবং কৃষি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাই অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।