ঝালকাঠিতে ওয়ার্ড আ.লীগ নেতা আজাদ রহমানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার আসল রহস্য উম্মেচিত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১




 

ঝালকাঠি শহরের আড়দ্দাপট্টি এলাকায় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ রহমানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার আসল রহস্য উম্মেচিত হতে শুরু করেছে। সকলের দৃষ্টি এখন বাসন্ডা সেতু সংলগ্ন জামলাকান্দা নামকস্থানে জায়গা-জমির ভাগ ভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত একটি সংঘর্ষের দিকে। ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আজাদ রহমান শহরের আড়দ্দার পট্টি হরিসভার মোড়ে হামলার শিকার হন।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায় , ঘটনার দিন বুধবার জামলাকান্দায় আজাদের চাচাতো ভাইদের দু গ্রুপের মধ্যে সকাল ও বিকেলে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। এর আগের দিন মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় আজাদের জ্ঞায়াতি চাচা মৃত সুন্দর আলীর ছেলে রাজ্জাক হাওলাদার গংদের সাথে অপর চাচাতো ভাই মজিবর হাওলাদার গংদের ম সোয়া ১ শতক জমির বিরোধ নিয়ে সালিশি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে আজাদ রহমান রাজ্জাক হাওলাদারের পক্ষ অবলম্বন করে বলে জানা যায়। এর জের ধরেই বুধবার সকালে ও বিকেলে জামলাকান্দায় মারামারি ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আর রাতে হামলার শিকার হন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ রহমান। তাই সাধারণ মানুষ , এ হামলার ঘটনার সাথে জামলাকান্দার ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
জামলাকান্দা ঝালকাঠি শহরের একটি আলোচিত সন্ত্রাস কবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এলাকায় চাঁদকাঠি এলাকার হালিম মিয়াসহ অনেকেই খুন ও হামলার শিকার হয়েছেন। সেই জামলাকান্দা এলাকার মৃত আবদুল মন্নান মেম্বরের ছেলে আজাদ রহমান। আজাদের জ্ঞায়াতি চাচা মৃত সুন্দর আলীর ভয়ে অনেকেই অস্থির থাকতেন। পালবাড়ি এলাকায় আজাদ রহমানের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডও মানুষের মুখেমুখে। সে নিজেও একজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
কি ঘটেছিল জামলাকান্দায় ?
আজাদের দুই চাচাতো ভাই মজিবর রহমান গং ও রাজ্জাক হাওলাদার গংদের মধ্যে সোয়া ১ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন বিরোধ ছিল। এ জমির ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে জামলাকান্দা এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেদিন সালিশ বৈঠকে আজাদ রহমান উপস্থিত ছিলেন। মাপঝোক ও বৈঠকের এক পর্যায়ে আজাদ রহমান রাজ্জাক গংদের পক্ষ নেয় এবং মজিবর গংদের সোয় ১ শতক জমি রাজ্জাকদের ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এর জেরে পরের দিন সকালে মজিবরের নেতৃত্বে মনির , বরাত , মুরাদসহ অনেকে সংঘবদ্ধ হয়ে রাজ্জাক ও তাঁর ভাই রাজিউলকে বেধরক মারধর করে। তাঁদেরকে সেভেন আপের কাচের বোতল দিয়ে জখম করা হয়। একই ভাবে বিকেলেও তাঁদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা হয়। সালিশিতে পক্ষপাতিত্বের জের ধরে রাতে হামলার শিকার হন আজাদ রহমান।
এ বিষয়ে জামলাকান্দা এলাকার রাজ্জাক হাওলাদার বলেন , সেদিন সালিশ বৈঠকে আজাদ ভাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ি বিরোধীয় জমির মালিকানা আমাদের। আজাদ ভাই ন্যায্য ভাবে ভাগভন্টন করেছেন। কিন্তু মজিবর হাওলাদার বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে দলবল নিয়ে আমাদের ওপর দুই দফা হামলা চালায়। আমি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। হাসপাতালে জরুরী বিভাগে আজাদ ভাইকে আহত অবস্থায় দেখেছি।
এদিকে এক শ্রেণির কুচক্রি মহল এ হামলার ঘটনার সাথে জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসোন আমুর অত্যন্ত অস্থা ভাজন , ঝালকাঠি পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী , যুবলীগ নেতা , ক্লীন ইমেজের জনপ্রিয় তরুণ নেতা জনাব মো. কামাল শরীফের নাম জড়িয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছেন। কামাল শরীফ ইতিমধ্যেই সাধারণ ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছেন। তাই ভোটারদের অভিমত , যেখানে ভোটের যুদ্ধে কামাল শরীফের জয় নিশ্চিত সেখানে কেন তিনি আজাদ রহমানের ওপর হামলা করাবেন ? এ প্রশ্নে জবাব খুঁজতে গিয়ে ভোটাররা জানতে পেরেছেন , আসলে কামাল শরীফের জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষর্নিত হয়ে বর্তমান কাউন্সিলর মাহাবুবুজ্জামান স্বপনসহ অনেকেই এ ষড়যন্ত্রের পেছনে ইন্দন দিচ্ছেন। হামলার ঘটনার সময় কামাল শরীফ তাঁর চার ভাই ও সমর্থকদের নিয়ে কাপুড়িপট্টি এলাকায় জন সংযোগে ব্যস্ত ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আজাদ রহমানের বন্ধু একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন , আমি কাছ থেকে আজাদের ওপর হামলার ঘটনা দেখেছি। যারা হামলা করেছিল তাঁদের মুখ অন্ধকারে দেখা যায়নি। তারা আজাদকে ঘিরে ধরে হামলা করেছে। হরিসভার মোড়ের খাদ্য অফিসের সামনে এত অন্ধকার ছিল যে আজাদরও হামলাকারিদের চেনার কথা নয়। তাই না জেনেশুনে এ ঘটনা নিরাপরাধ কারও মাথায় চাপানো উচিৎ নয়।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান , আমরা তদন্তের মাধ্যমে জানতে পেরেছি , একটি সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে বুধবার জামলাকান্দায় আজাদের চাচাতো ভাইদের দু গ্রুপের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। সেই সালিশিতে আজাদ রহমান উপস্থিত ছিলেন। তবে নিরাপরাধ কোন ব্যক্তিকে যাতে এ ঘটনায় জড়ানো না হয় , সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখা হবে।
এদিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিল মাহাবুবুজ্জামান স্বপন ও আজাদ রহমানের মধ্যে বিরোধ অনেক পুরোনো। গত নির্বাচনে আজাদ রহমান স্বপনের কাছে হেরে ছিলেন। সেই থেকেই আজাদ রহমান স্বপন কাউন্সিলরকে দেখে গালাগাল করতেন। করোনাকালে বিভিন্ন সংস্থার দেয়া ত্রাণ নিয়েও কাউন্সিল মাহাবুবুজ্জামান স্বপন ও আজাদ রহমানের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। তাই আজাদের ওপর হামলার ঘটনায় কাউন্সিল মাহাবুবুজ্জামান স্বপনের ইন্দন থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. কামাল শরীফ বলেন , আমি পেশী শক্তির রাজনীতি বিশ্বাস করিনা। আমি সকল প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করতে সব কিছুতে ছাড় দিতে চাই। তাই আমার বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব ভোটাররাই দেবেন।
তিনি আরও বলেন , আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। আমাদের পরিবারের মাধ্যমে এ এলাকার মানুষের উপকার ছাড়া কোন ক্ষতি হয়নি। আমি এলাকার বয়জ্যেষ্ঠ ও সাধারণ ভোটারদের নিয়ে সকলের কাছে গণ সংযোগ করছি। আগামীতেও আমার বাড়ির দড়জা সকলের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রভাতী নিউজ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।