বিয়ের পরেও একাধিক পুরুষের প্রেমে পড়তে ভালোবাসেন রাধিকা আপ্তে

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ১৪ জুন ২০২০

বলিউডের একজন সাহসী অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে, চরিত্র এবং চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে ক্যামেরার সামনে নগ্ন হয়েছেন অসংখ্যবার। এবার জানালেন একই সঙ্গে একাধিক জনের প্রেমে পড়তে ভালোবাসেন তিনি। কারো প্রতি হয়তো শারীরিক আকর্ষণ বোধ করলেন। আবার কারো সান্নিধ্য হয়তো ভালো লাগল, ব্যাস।

ক্যারিয়ারের মাঝপথে ২০১১ সালে বলিউড থেকে বিরতি নিয়েছিলেন রাধিকা আপ্তে। গিয়েছিলেন লন্ডনে। কন্টেম্পোরারি ডান্স শিখতে। নাচের সূত্রেই আলাপ গানের মানুষের সঙ্গে। কয়েক দিনের মধ্যেই সুরের মানুষ হয়ে গেলেন মনের মানুষ। ব্রিটিশ সুরকার বেনেডিক্ট টেলরের সঙ্গে লিভ টুগেদার শুরু করলেন রাধিকা। ২০১২ সালে লন্ডনেই বিয়ে করেন দু’জনে। শুধুমাত্র রেজিস্ট্রি ম্যারেজ। বিয়ের খবর বহুদিন গোপন রেখেছিলেন ‘অন্তহীন’-এর নায়িকা। ইন্ডাস্ট্রির কেউ টেরই পাননি তিনি গাঁটছড়া বেঁধেছেন।

অবশ্য বেনেডিক্টই প্রথম নন। তাঁর আগেও বহু পুরুষ এসেছেন রাধিকার জীবনে। তুষার কাপুর সঙ্গে রাধিকার সম্পর্ক ছিল। তবে এই গুঞ্জন বরাবরই অস্বীকার করেছেন ‘অন্ধাধুন’-এর সোফি।

তবে আর পাঁচজন বিবাহিত দম্পতির মতো থাকতে পছন্দ করেন না রাধিকা। তিনি আর বেনেডিক্ট লং ডিস্ট্যান্স সম্পর্কে বিশ্বাসী। রাধিকা মুম্বাইয়ে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। বেনেডিক্টের কাজের জগত লন্ডনে। সম্প্রতি জনপ্রিয় হিন্দি ওয়েব টিভি সিরিজ ‘পাতাললোক’-এ সুরকার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

রাধিকা আর বেনেডিক্ট দু’জনে দু’জনের কাছে যাওয়া আসা করেন। চেষ্টা করেন যাতে অদর্শনের সময়সীমা যাতে এক মাসের বেশি না হয়। বিশ্বের দুই প্রান্তে দুই সংসার বজায় রাখা, ঘন ঘন যাতায়াত করা যে যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ, স্বীকার করেন রাধিকা। সেই কারণে তারা অন্যান্য দিকে ব্যয়সঙ্কোচ করেন। এমনকি, বিমানে যাতায়াতও করেন ইকোনমি ক্লাসেই।

তবে বিয়ে মানেই যে সব কিছুর উপর বন্ধন, এটা মানেন না রাধিকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিয়ের পরেও অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণ বোধ করার মধ্যে তিনি কোনো অন্যায় বা পাপ দেখেন না। রাধিকার মতে, মোনোগ্যামি কোনও ব্যক্তিবিশেষের পছন্দ হতেই পারে। কিন্তু সেটা জীবনের বাধ্যবাধকতা হতে পারে না। রাধিকার প্রশ্ন, তার যদি একইসঙ্গে নাচ ও গান ভাল লাগতে পারে, তা হলে দু’জন পুরুষকে পছন্দ হতে পারবে না কেন? একই সঙ্গে একাধিক জনের প্রেমে পড়তে ভালবাসেন রাধিকা। জানিয়েছেন নিজেই। কারওর প্রতি হয়তো শারীরিক আকর্ষণ বোধ করলেন। আবার কারওর সান্নিধ্য হয়তো ভাল লাগল।

বিয়ের পরে তাকে কোনো কিছুর জন্য স্বামী বেনেডিক্টের অনুমতি নিতে হয় না বলে জানিয়েছেন রাধিকা। আবার একইসঙ্গে তার জীবনদর্শন নিয়েও আপত্তি নেই বেনেডিক্টের। তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করেন ‘বদলাপুর’-এর কাঞ্চন।

বিয়ের পরেও একাধিক নায়কের সঙ্গে রাধিকার সম্পর্কের কথা শোনা গেছে। ২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘বদলাপুর’। ছবির নায়ক বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে তিনি অন্তরঙ্গ ছিলেন বলে ইন্ডাস্ট্রিতে গুঞ্জন। তবে রাধিকা একে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পরবর্তী সময়ে।‘মানঝি—দ্য মাউন্টেন ম্যান’-এর নায়ক নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গেও তার প্রণয় ছিল বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সে কথা রয়ে যায় গুঞ্জনের স্তরেই। এর পর বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গেও রাধিকার নাম জড়িয়ে যায়। কিন্তু বিবেক বা রাধিকা, দু’জনেই এই প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

চিকিৎসক দম্পতির কন্যা রাধিকার জন্ম তামিলনাড়ুর ভেলোরে, ১৯৮৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। পুনের ফার্গুসন কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিতে স্নাতক। রাধিকা হিন্দি, ইংরেজি, তামিল, মারাঠি, তেলেগু, মালয়লাম ও বাংলা মিলিয়ে মোট সাতটি ভাষায় কথা বলতে পারেন।

কলেজে পড়তে পড়তেই ২০০৫ সালে প্রথম অভিনয় ‘বাহ! লাইফ হো তো হ্যায় অ্যায়সি’ ছবিতে। তখনো ভাবেনইনি একদিন অভিনয়কেই পেশা করবেন। তবে রাধিকা খুব বেছে বেছে ছবিতে অভিনয় করেন। দেড় দশকের কেরিয়ারে হিন্দি ছাড়াও অভিনয় করেছেন বাংলা, তেলেগু, মালয়লাম ও ইংরেজি ছবিতে।

সূত্র- আনন্দবাজার।