নলডাঙ্গায় জমজমাট খলশুনের হাট- নলডাঙ্গা হাট থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:১০ অপরাহ্ণ, ২৯ জুলাই ২০২০

খলশুনকে অনেকেই অঞ্চল ভেদে খলশানি,ধুনদি,চৌকা বলে থাকে।

চলছে বর্ষাকাল,নাটোরের হালতিবিল পরিবেষ্টিত নলডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জমজমাট খলশুনের ক্রয়-বিক্রয়।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বৈরি আবহাওয়ার কারণে আষাঢ় মাসের দফায় দফায় রিমঝিম বৃষ্টিতে আগাম বন্যার কারণে খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়াসহ নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

ফলে বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দেশী প্রজাতির ছোট ব্যাপক সমাহার। দেশী প্রজাতির ছোট মাছ ধরায় গ্রাম বাংলার সহজলভ্য প্রাচীনতম বাঁশের তৈরি উপকরন খলশুন বিক্রির ধুম পড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে প্রতিদিন শত শত খলশানি বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নলডাঙ্গা হাট, হাটের খলশুন পট্টিতে বেচা কেনার জন্য সকাল থেকেই হাটে আসা জনসাধারণের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে জমজমাট খলশানির হাট।

সাধ্য অনুযায়ী সাধারণ, কৃষক শ্রেণীর বেকার লোকজন ও মৌসুমী মৎস্য ব্যবসায়ীরা খলশুন ক্রয়ের বিশেষ ক্রেতা। নলডাঙ্গা হাট ছাড়াও পাশবর্তী আত্রাই,তাহেরপুর,তেবাড়িয়াসহ বিভিন্ন হাটে খলশুন পাওয়া যায়।

গত সপ্তাহ জুড়ে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন নতুন এলাকা হাটু পানিতে তলিয়ে যাওয়ার অবসরে মানুষ গুলো এখন খলশুন দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে কিছুটা অর্থ উর্পাজনেরও সুযোগ সৃষ্টি করছে।

ঋষি সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে এই অবসর মৌসুমে তাদের নিপুণ হাতে বাঁশ ও তালের উপকরন দ্বারা তৈরি খলশুন বাড়ি থেকে পাইকারি বিক্রি সহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে বসে থাকে।

বাঁশ, কট সুতা এবং তাল গাছের সাঁশ দিয়ে তৈরি এসব খলশুন মানের দিক দিয়ে ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অঞ্চল ভেদে বিশেষ করে হাওর ও বন্যা প্রবন এলাকার মাছ ব্যবসায়ীরা বর্তমান মৌসুমের শুরু থেকেই পাইকারি মূল্যে কিনে বিভিন্ন যানবাহন যোগে খলশুন পার্শ্ববর্তী জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ফলে এখানকার খলশুন তৈরির সাথে জড়িত পরিবারগুলো বর্ষা মৌসুমে এর কদর বেশি ও যথাযথ মূল্য পাওয়ায় মাত্র দুই তিন মাসেই খলশুন বিক্রি করেই তারা প্রায় বছরের খোরাক ঘরে তুলে নেয়। লাভ খুব বেশি না হলেও বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা থাকায় রাত-দিন পরিশ্রমের মাধ্যমে খলশুন তৈরি করে তারা বেজাই খুশি।

এক দিকে যেমন সময় কাটে অন্য দিকে লাভের আশায় বাড়ির সকল সদস্যরা মিলে খলশুন তৈরির কাজ করে অভাব অনঠনের কবল থেকে একটু সুখের নিশ্বাস ফেলে। মাপ ও প্রকার ভেদে প্রতিটির খরচ হয় ১৪০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রি হয় ১৮০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। এতে করে খুব বেশি লাভ না হলেও বাপ-দাদার পৈত্রিক এই পেশা ছাড়তে নারাজ এই পেশার সাথে জড়িতরা।

উপজেলার মাধনগর গ্রামের সাদেক আলী বলেন,খলশুন দিয়ে ছোটবেলায় অনেক খালবিলে অনেক মাছ শিকার করছি।

উপজেলার হলুদঘর জাঙ্গালপাড়া গ্রামের এক খলশুন ব্যবসায়ী জানান,এই পেশার সাথে জড়িতরা প্রায় অন্য পেশায় গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের পরিবার বাপ দাদার পেশায় রয়েছে।

আধুনিকতার উৎকর্ষের তৈরি ছোট জাতের মাছ ধরার সুতি,বাদাই ও কারেন্ট জালের দাপটের কারণে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি খলশুন এমনিতেই টিকে থাকতে পারছে না।