পদত্যাগ না করতে অনড় মমতা, কী হবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা হস্তান্তর?

প্রভাতী নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি যদি সত্যিই ইস্তফা না দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিকভাবে কী ঘটবে?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন। তবে তিনি সেই রীতি অনুসরণ না করে পরে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না।

তিনি দাবি করেন, “আমরা হারিনি, ভোটে জোর করে কারচুপি হয়েছে। তাই ইস্তফার প্রশ্নই আসে না।”

সংবিধান কী বলে?

ভারতের সংবিধানে এমন পরিস্থিতি—অর্থাৎ ভোটে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না দেওয়া—নিয়ে সরাসরি কোনো স্পষ্ট ধারা নেই। তবে প্রচলিত সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিয়ে থাকেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কিছু সাংবিধানিক ব্যাখ্যা সামনে আসে।বিধানসভার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বে থাকেন।মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তখন নামের আগে “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী” যুক্ত হয়


বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে। ফলে ওই দিন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। দলটি নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, যার মধ্যে রয়েছেন Narendra Modi এবং Amit Shah, নতুন পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। তিনিই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

এরপর রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানানো হবে এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

যদি নতুন সরকার ৭ মে’র পরে শপথ নেয়, তাহলে কয়েক ঘণ্টা বা দিনের জন্য সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যপাল প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্প সময়ের জন্য হলে সাধারণত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয় না, বরং রাজ্যপাল পরিস্থিতি তদারকি করেন।

২০১১ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার পরপরই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই এটি একটি রাজনৈতিক রীতি হিসেবে প্রচলিত হয়ে আসে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিলেও সংবিধান অনুযায়ী বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলেই তাঁর ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে। তবে তাঁর এই অবস্থান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!