চৌগাছা যশোর প্রতিনিধি: যশোরের সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করে গেলেও স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজুর রহমান। বিদ্যালয়ের অভাবনীয় সাফল্য ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থাকা সত্ত্বেও তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মোঃ আজিজুর রহমান শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার মেধা ও শ্রমের ফলে বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয় কাটিয়ে সাফল্যের ধারা শুরু হয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালে ৩টি, ২০২২ সালে ১২টি, ২০২৩ সালে ৮টি এবং ২০২৪ সালে ৭টি জিপিএ-৫ অর্জন করে শিক্ষার্থীরা। তবে এই সাফল্যের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতা ও ষড়যন্ত্র। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে চলে আসা শিক্ষকদের গৃহভাড়া সংক্রান্ত সমস্যাটি এখনো সমাধান হয়নি। যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩০০/৪০০ টাকা ভাড়া হওয়ার কথা, সেখানে শিক্ষকদের ১৪০০/১৫০০ টাকা ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে প্রাইভেট টিউশনে মগ্ন থাকা এবং বিদ্যালয়ের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের সাবেক কেরানি মোঃ সেলিম হোসেনের পুনঃযোগদান নিয়ে বিতর্ক। ২০২৪ সালের ১ মে সেলিম হোসেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, যার প্রেক্ষিতে রেজুলেশন ও প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার নাম কর্তন করা হয়। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে পুনরায় কাজে যোগদানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক সরকারি বিধিমোতাবেক নতুন নিয়োগ ছাড়া তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে ষড়যন্ত্রের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
জানা গেছে, কতিপয় অ-অভিভাবক রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ের যাবতীয় আয়-ব্যয় এবং নথিপত্র যাচাই করেন। তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটি প্রধান শিক্ষককে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগটিও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, "আমি যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের মঙ্গল কামনায় কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলই আমার বড় সার্থকতা। কিন্তু একটি চক্র আমাকে ব্ল্যাকমেইল ও অপপ্রচারের মাধ্যমে দমিয়ে রাখতে চাইছে। আমি প্রশাসনের কাছে এসব ষড়যন্ত্র বন্ধে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"
বিদ্যালয়ের প্রকৃত অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার পরিবেশ যারা নষ্ট করছে এবং একজন সফল প্রধান শিক্ষককে যারা অপদস্থ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!