প্রভাতী নিউজ ডেস্ক: আজ ৫ই মে। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর ক্ষত এবং একই সাথে এক অবিনাশী চেতনার দিন।
আজ থেকে ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার মতিঝিলস্থ শাপলা চত্বরে রচিত হয়েছিল এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। দেশের প্রান্তিক জনপদ থেকে আসা লাখো আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সেই জমায়েত আজও প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে অমলিন এক স্মৃতি হিসেবে গেঁথে আছে।
২০১৩ সালের এই দিনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ব্যানারে শাপলা চত্বরে সমবেত হয়েছিলেন হাজার হাজার আলেম। তপ্ত রোদ আর শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তারা এসেছিলেন কেবল তাদের বিশ্বাস, আদর্শ এবং ধর্মীয় মৌলিক দাবি আদায়ের টানে। সেই দিনের শাপলা চত্বর কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান ছিল না; বরং তা হয়ে উঠেছিল অধিকার বঞ্চিত এক বিশাল জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর।
ইতিহাসের পাতায় ৫ই মে কেবল একটি তারিখ নয়, এটি ত্যাগ ও ধৈর্য্যের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা। শাপলা চত্বরের সেই দিনটি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিজের আদর্শে পাহাড়ের মতো অটল থাকতে হয়। দিনটি স্মরণ করতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, সেদিন আলেম-উলামারা প্রমাণ করেছিলেন যে, পার্থিব কোনো ভয় বা বাধা তাদের বিশ্বাসের চেতনাকে দমিত করতে পারে না।
শাপলা চত্বরের সেই স্মৃতি আজও বাংলার ঘরে ঘরে এক নীরব শোক এবং সাহসের গল্প হয়ে বেঁচে আছে। আলেম সমাজের সেই আত্মত্যাগ ও সংহতি সময়ের সাথে ফিকে হয়ে যায়নি, বরং তা সময়ের সাথে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। দিনটি আজ কেবল একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং নিজের পরিচয়ে গর্বিত থাকার এক অন্তহীন প্রেরণা।
শাপলা চত্বরের সেই দিনের ঘটনার স্মরণে আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলেম-উলামারা দোয়া ও আলোচনার মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। ইতিহাসের এই অধ্যায়টি আগামী প্রজন্মের কাছে সততা, ত্যাগ এবং ঈমানি দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!