মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন,জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় তরিকুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ীকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করার অভিযোগ উঠেছে।
চোর মাসুদ কেন্দুয়া থানায় একদিনের রিমান্ডের আসামি। তার মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় দিনের আলোতে দোকানে কাজ করার অবস্থায় ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের দোতলা বাড়ির মো. রহিমুল্লার বড় ছেলে মো. মাসুদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন চুরি, ডাকাতি ও মাদক সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত থেকে অপরাধ করে আসছে। মাসুদ আওয়ামী লীগের ১৫ বছর শাসনামলে তার চাচাতো ভাই জোনায়েদ ও পুলকের অনুসারী হয়েই এই অপরাধগুলো করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচুত হওয়ার পর জুনায়েদ ও পুলক বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর মাসুদের রক্ষনাবেক্কনে কেউ ছিল না বিদায় - অভাবের তাড়নায় অন্যের বাড়িতে চুরি করতে না পেরে জুনায়েদ ও পুলকের বাড়িতেই চুরি করে চলছেন। মাঝে মাঝে রাস্তায় চলাচল করার সুবাদে মাসুদের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামের কেন্দুয়া পৌর মার্কেটের সিএনজি ও অটোরিকশর যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় ও বিভিন্ন যানবাহন মেরামত এবং ব্যাটারি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলামের।
সূত্র জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মাসুদ পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রশাসনের মাধ্যমে তরিকুলকে আটক করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, তরিকুল ইসলাম একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, মাসুদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ থাকলেও সৈরা ক্ষমতার কারণে সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছিল। তারা এ ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে নিরীহ মানুষকে হয়রানির শিকার করতে না হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হলে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তি ন্যায়বিচার পাবে।
এদিকে চোরের বাবা রহিমুল্লাহ বলেন- আমার ছেলে চোর ছিল না, আমার ছেলে নেশাখোর ছিল না, আমার ছেলেকে জুনায়েদ ও পুলক চুরি ও ডাকাতি করতে শিখিয়েছে, তারা আজ শিখিয়ে আছে একজন চাকরিতে খালিয়াজুড়ি, আরেকজন পলাতক। কিন্তু আমার ছেলে নেশার টাকা না যোগাতে পেরে আজ তাদের ঘরের মালামাল চুরি করছে। কিছু বললে আমাকে খুন করবে বলে মাসুদ।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত মাসুদ গত ১১ এপ্রিল সকালে ৮ টার সময় তার নিজ বাড়ি / গ্রামের দুর্গাপুরের দোতলা বাড়ি কেন্দুয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শরীরচর্চা শিক্ষক আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাদিস মিয়ার বাড়িতে চুরি করার সময় জনতার হাতে আটক হয়। পরবর্তীতে মরহুম হাদিস মিয়ার বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে গিয়ে গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করে কেন্দুয়া থানাকে বিষয়টি অবহিত করলে সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনার সততা পায়, এবং তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পরেরদিন মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মাসুদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে কেন্দুয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন আদালতে প্রেরণ করেন এবং আদালতে মাসুদ স্বীকার করে আমার চুরি করা মালামালগুলো ব্যবসায়ী তরিকুলের নিকট বিক্রি করেছিলাম। পুলিশ আদালতে মাসুদের রিমান্ড দাবী করলে আদালত মাসুদকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বর্তমানে মাসুদ কেন্দুয়া থানায় রিমান্ডধীন রয়েছে। পরবর্তী ১৫ এপ্রিল বিকেলের দিকে গ্রেফতারকৃত মাসুদের তথ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ী তরিকুলকে তার দোকান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় কেন্দুয়া থানার পুলিশ।
এই বিষয় কেন্দুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী মাকসুদ বলেন- মাসুদকে রিমান্ডে আনা হয়েছে, তার জবানবন্দি অনুযায়ী তরিকুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!