রাশেদুল হক রাশেদ, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছা উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার দেবীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের বকশিপুর গ্রামের মমিনুর রহমানের ছেলে। তিনি খুলনার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আশরাফুলের দাদি সানোয়ারা খাতুনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি কর্মস্থল খুলনা থেকে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রিয় দাদিকে শেষবারের মতো দেখার তীব্র আকুলতা তাকে ব্যাকুল করে তোলে। বুকভরা শোক আর তাড়াহুড়ো নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির পথে ছুটছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—সেই শেষ দেখা আর হয়ে ওঠেনি।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, বাড়ি থেকে মাত্র প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে দেবীপুর এলাকায় পৌঁছালে তার মোটরসাইকেলের সঙ্গে অপর একটি বাহনের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খান। সংঘর্ষটি ছিল অত্যন্ত তীব্র, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অপর বাহনের তিন আরোহীও আহত হন।
আহতরা হলেন—চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামের ওয়ালিদ, রিয়াদ ও সুমন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে আশরাফুলের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, দাদি সানোয়ারা খাতুনের মৃত্যুর শোক তখনো পরিবারে বিরাজমান ছিল। এর মধ্যেই নাতি আশরাফুলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছালে শোক যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে। এক শোক কাটতে না কাটতেই আরেক শোকে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
যে নাতি শেষবারের মতো দাদির মুখ দেখতে ছুটে আসছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকেই দেখতে হয়েছে সাদা কাফনে মোড়ানো অবস্থায়—এ দৃশ্য পরিবার ও প্রতিবেশীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!