স্পোর্টস ডেস্ক,
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আইসিসির বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপের হাই-প্রোফাইল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব ক্রিকেটে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, অতীতের নজির বলছে—আর্থিক বা কৌশলগতভাবে পাকিস্তান হয়তো বড় কোনো ক্ষতির মুখে পড়বে না।
সাধারণত কোনো ক্রিকেট বোর্ড স্বেচ্ছায় ম্যাচ বয়কট করলে আইসিসি বড় অংকের জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন:
এই বয়কটের সিদ্ধান্তটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) একা নেয়নি, বরং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকার এই ঘোষণা দিয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের সার্বভৌম সরকার যদি নিরাপত্তার অজুহাতে বা নীতিগত কারণে ম্যাচ খেলতে বারণ করে, তবে বোর্ডকে শাস্তির আওতায় আনা কঠিন।
১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কা সফর করেনি এবং ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছিল। এই চারটি ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তগুলো ছিল সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের। ফলে আইসিসি ওই বোর্ডগুলোর রাজস্ব বা অংশগ্রহণ ফি কর্তন করেনি এবং কোনো দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞাও দেয়নি।
যেহেতু সিদ্ধান্তটি সরকারি পর্যায়ের, তাই পাকিস্তান তাদের নির্ধারিত রাজস্ব এবং অংশগ্রহণ ফি পুরোপুরি বুঝে পাওয়ার আইনি ভিত্তি রাখে।
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ১৫ ফেব্রুয়ারির হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। যদিও বিশ্লেষকরা ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন, তবে সেই লোকসান মূলত আইসিসি এবং ব্রডকাস্টারদের পকেট থেকেই যাবে। পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!