মো: রফিকুল ইসলাম মিঠু
ফেনী শহরের দাগনভূঞার খুশিপুর গ্রামের সন্তান আহসান উল্লাহ মিয়া। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার টানে স্ত্রী-সন্তানকে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও জোটেনি ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা’র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা স্ত্রী সালেহা বেগম স্বামীর স্বীকৃতির আশায় থানা কমান্ড থেকে শুরু করে জামুকা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে আজ ক্লান্ত।রাজনৈতিক অপবাদে আটকে গেছে স্বীকৃতিসালেহা বেগমের অভিযোগ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে তার স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ওঠেনি। তিনি জানান, ইতিপূর্বে দৈনিক সমকালসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে এবং সকল তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি আহসান উল্লাহ মিয়ার সাথে একই সেক্টরে যুদ্ধ করা সহযোদ্ধারাও সাক্ষ্য দিয়েছেন।সালেহা বেগম আক্ষেপ করে বলেন,”বিগত সরকারের আমলের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আমার পরিবারকে বিএনপির সমর্থিত আখ্যা দিয়ে আমার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ কি রাজনৈতিক পরিচয়ে চাপা পড়ে যাবে?”স্বামী হারানোর সেই দুঃসহ স্মৃতিস্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সালেহা বেগম। তিনি বলেন, চোখের সামনে দিয়ে রাজাকাররা তার স্বামীকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে জানতে পারেন, তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। স্বামীর শেষ বিদায়ে মুখটা পর্যন্ত দেখার সুযোগ পাননি তিনি। একমাত্র সন্তান ইয়াসিনকে নিয়ে বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন এই বীর জায়া।
প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনাসালেহা বেগম বলেন, “শুনেছি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তার কাছে আমার আকুল আবেদন, সকল কাগজপত্র ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে আমার স্বামীকে যেন একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।” তিনি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।আহসান উল্লাহ মিয়ার মতো বীরের আত্মত্যাগ যেন অবহেলায় হারিয়ে না যায়, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!