নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা |
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ভোররাতে থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান সারোয়ারে আলম জানান, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে গৃধারীপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এই মামলার একজন অজ্ঞাতনামা আসামি। এ নিয়ে এই মামলায় মোট দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ঘটনার দিনই তৌহিদুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলার গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। তার রাজনৈতিক পরিচয়: উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি। পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির এবং ২০১৩-১৪ সালে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ (বুধবার) রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে নিয়ে থানায় যান। তারা কালিবাজারের একটি বিবাদমান দোকান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার জন্য ওসিকে চাপ দেন। ওসি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এটি করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে জামায়াত নেতা পলাশ ও তার সঙ্গীরা ওসির ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। বাধা দিতে এগিয়ে আসলে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের অন্তত ৮-৯ জন সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা থানার সরকারি নথিপত্রও ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় গত ২৬ মার্চ আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২-১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন: ১. মাহমুদুল হাসান পলাশ (প্রধান আসামি) ২. মাহফুজ রহমান সিনহা ৩. তৌহিদুল ইসলাম কানন ৪. মেহেদী হাসান ৫. সাদ্দাম হোসেন ৬. শাওন ৭. গোলজার রহমান ৮. সবুজ মিয়া ৯. আব্দুল মালেক
পলাশবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!