বাড়ির আঙিনা থেকে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষে সফল নুরুজ্জামান, এখন ১ বিঘা জমিতে স্বপ্নের বিস্তার

রাশেদুল হক রাশেদ, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর পেটভরা গ্রামের একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা নুরুজ্জামান। প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে বাড়ির আঙিনায় শুরু করেছিলেন আঙ্গুর চাষ। শুরুটা ছিল ছোট—মাত্র ৪ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার সেই ছোট উদ্যোগ এনে দিয়েছে বড় সাফল্য।

স্থানীয়ভাবে আঙ্গুর চাষ খুব একটা দেখা যায় না। কারণ এদেশের আবহাওয়া ও মাটির ধরনকে অনেকে আঙ্গুর চাষের জন্য উপযুক্ত মনে করেন না। তবুও সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেই নুরুজ্জামান সাহস নিয়ে শুরু করেন তার যাত্রা। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং মানুষের সংশয়—সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে তিনি নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক পদ্ধতি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেন।

ফলাফলও আসে দ্রুত। তার বাগানে আঙ্গুরের গাছে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। ঝুলন্ত থোকায় থোকায় আঙ্গুর দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। স্থানীয় মানুষজন প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় জমাতে থাকেন। অনেকে আবার সরাসরি বাগান থেকে আঙ্গুর কিনতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নুরুজ্জামান জানান, “প্রথমে শখের বসে শুরু করেছিলাম। পরে যখন ভালো ফলন পেলাম, তখন মনে সাহস আসে। এখন এটাকে বাণিজ্যিকভাবে করার চিন্তা করছি।”

তার এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের অনেক কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তা আঙ্গুর চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা নিয়মিত নুরুজ্জামানের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন, চাষ পদ্ধতি শিখছেন।

প্রাথমিক সফলতার ধারাবাহিকতায় নুরুজ্জামান এখন তার আঙ্গুর চাষকে বড় পরিসরে নিয়ে গেছেন। বাড়ির আঙিনা ছাড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে ১ বিঘা জমিতে নতুন করে আঙ্গুর বাগান তৈরি করেছেন। সেখানে উন্নত জাতের চারা রোপণ করা হয়েছে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা চলছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই আমাদের এলাকায় আঙ্গুর চাষ জনপ্রিয় হোক। যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব।”

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে ফল চাষে বৈচিত্র্য আনার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আঙ্গুর চাষ সঠিক পদ্ধতিতে করা গেলে এটি লাভজনক একটি সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে। নুরুজ্জামানের এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনার একটি বাস্তব উদাহরণ। 

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জাত নির্বাচন, সেচ ব্যবস্থা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল জানা থাকলে বাংলাদেশেও সফলভাবে আঙ্গুর চাষ করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা যদি আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসেন, তাহলে কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

নুরুজ্জামানের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো এলাকার জন্য একটি অনুপ্রেরণার গল্প। যেখানে অনেকেই প্রচলিত কৃষির বাইরে যেতে ভয় পান, সেখানে তিনি সাহস নিয়ে নতুন কিছু করে দেখিয়েছেন।

বাড়ির আঙিনার ছোট্ট উদ্যোগ থেকে ১ বিঘা জমির বাণিজ্যিক আঙ্গুর বাগান—নুরুজ্জামানের এই পথচলা প্রমাণ করে, ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তার এই সফলতা চৌগাছাসহ দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!