কেন্দুয়ায় বোন ও বোন জামাই বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, অভিযুক্তদের জায়গা দখলের চেষ্টা

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় পৌর শহরের সাউদপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আজহারুল হক ও ডার স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন এর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ ও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান ভূঞা, নেত্রকোনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, মামলা নং - ২৫৪-২০২৬।


মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টেঙ্গুরী মৌজায় প্রায় ৪৩ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দখল রেখে সেখানে একটি অটোরাইস মিল পরিচালনা করে আসছিলেন মনিরুজ্জামান ভূঞা। 

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয় টেংগুরি ছয়ানী গ্রামের বাচ্চু মিয়ার বিআরএস খতিয়ান মালিক হতে নিজ নামে মনিরুজ্জামান ভুইঁয়া নিজ নামে ১-১০-৮ তাং সাবেক দাগ-২২৮/ ৪৬২ (হাল) ২৩.৫ শতাংশ, ৩৮৯/৪৬১, ৯.৫ শতাংশ। ২২২,২২৩/৪৭৩. ৮ শতাংশ রেজিষ্ট্রেশন মুলে দলিল করি এবং ৮-১১-১০ তাং উক্ত গ্রামের রহিমা খাতুন এর কাছে থেকে ২ শতাংশ জায়গা দলিল মুলে খরিদ করি। যাহার রেজিষ্ট্রেশন নং ৪২৭৪,৬৪১০।

এর পর থেকে নামজারি, খাজনা প্রদানসহ সকল আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি এবং সরকারি স্বীকৃত মালিক হিসেবে ভোগদখলে ছিলাম।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক আজহারুল হক ও তার স্ত্রী ফরহানা ইয়াসমিনকে অটোরাইস মিল দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। এ সময় তাদের কথামতো একটি আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান। কিন্তু পরে কৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার অজান্তেই হেবা (দান) ঘোষণার দুটি দলিল তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী দাবি করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে আদালতে দলিল বাতিলের জন্য পৃথক মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিজেদের অবৈধ দাবির পক্ষে শক্তি প্রদর্শন করে তাকে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত ২এপ্রিল বিকেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে তার রাইস মিলে প্রবেশ করে কর্মচারীদের কাজে বাধা দেয় এবং জমি দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায় যে, যেকোনো সময় তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয় অভিযুক্ত আজহারুল হক বলেন- আমি ২০২১ সালে ৩২ লক্ষ টাকা দিয়ে ৪৩ শতাংশ জায়গা কিনে কেন্দুয়া অফিসে হেবা দলিল নিয়ে উক্ত জমি নামজারির মাধ্যমেে খাজনা দিয়ে আসতেছি। আমার কাছে থেকে মোট ৪৭ লক্ষ  টাকা নিয়েছেন। আমি তার কাছে আরও টাকা পাই। 

এই মামলার বিষয় কথার প্রসঙ্গে বলেন- আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে শামীম ভাই, তাই বাঁচার জন্য আমিও একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। তাছাড়া আমার ঘরের তালা না ভাংলে আমি অভিযোগ দাখিল করতাম না। 

আল খায়রুল অটো রাইস মিলের ফোর ম্যান মামুন বলেন- আমি এই মেইলে শুরু থেকে কাজ করে আসতেছি, আজহারুল হক মনিরুজ্জামান ভুইঁয়া বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি দায়ের করেছে, সেই অভিযোগটি মিথ্যা বানোয়াট। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন- শালা বাটপার। 

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজাউল করিম বলেন- হাতে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!