নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম: অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল)-এর পরিশোধন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে শোধনাগারটির ক্রুড প্রসেসিং ইউনিটটি অচল হয়ে পড়ে।
চালু হওয়ার সম্ভাব্য সময়: ইআরএল-এর কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ১০ মে’র আগে রিফাইনারি পুনরায় চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মে মাসের শুরুতে আমদানিকৃত তেলের নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় শোধনাগারটিতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্সের কাজ চালানো হবে।
মূলত ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে নতুন কোনো ক্রুড তেলের চালান আসেনি।
মজুদ শেষ হয়ে আসার পর কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন তেল এবং স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা 'ডেড স্টক' ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করেছিল। প্রতিদিন ৪ হাজার ৫০০ টনের পরিবর্তে উৎপাদন ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়।
ইআরএল-এর উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। তাদের মতে:
দেশে সরাসরি আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে।
পেট্রোল, এলপি গ্যাস ও বিটুমিন উৎপাদন এবং সরবরাহ কার্যক্রম এখনও চলমান।
জাতীয় পর্যায়ে তেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। এখান থেকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়। বাকি চাহিদা ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!