রাশেদুল হক,যশোর চৌগাছা প্রতিনিধি:যশোর চৌগাছা উপজেলা নারায়নপুর পেটভরা গ্রামের।
জীবন্ত উদাহরণ: বয়স কেবল সংখ্যা, ইমানের সীমা নেই।
১১০ বছর বয়সেও কোরআন তিলাওয়াত ও হাদিস পাঠে অভ্যস্ত আনছার আলী মন্ডল আজও অনুপ্রেরণার ঝর্ণাধারার মতো সকলের হৃদয় স্পর্শ করছেন। বার্ধক্য তাঁর শরীরকে শিথিল করলেও মন, ইমান ও দ্বীনি অনুপ্রেরণা অটল। প্রতিদিনের নিয়মিত অধ্যয়ন যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছে এবং আশেপাশের সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে—বয়সই কি শুধু সংখ্যা?
স্থানীয় মানুষ ও পরিচিতরা বলেন,
“আনছার আলী মন্ডলকে দেখলে মনে হয়, বয়স কিছুই নয়। যে ইমান আছে, সে সব বাধা অতিক্রম করতে পারে।”
তিনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় কোরআন তিলাওয়াত ও হাদিস অধ্যয়ন করেন। শরীরের অসুবিধা, চোখের দুর্বলতা—সবকিছু তাঁকে থামাতে পারেনি।
বরং তাঁর অধ্যবসায় দেখলে মনে হয়, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধিকে ধন্য করে।
আনছার আলী মন্ডল নিজেও বলেন,
“জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর কালাম ও রাসুল (সা.)-এর হাদিসের সঙ্গে থাকতে চাই।
এটিই আমার শান্তি, এটিই আমার খুশি।”
এলাকার আলেম ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, তাঁর অধ্যবসায় শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।
১১০ বছর বয়সেও যিনি দ্বীনের পথে অবিচল, তিনি প্রমাণ করেছেন—সত্যিকারের জ্ঞান ও ইমানের সীমা নেই।
আনছার আলী মন্ডল আমাদের শেখাচ্ছেন যে, বয়স কেবল সংখ্যা, কিন্তু সৎ জীবন, অধ্যবসায় ও ঈমান কখনও পুরানো হয় না।
তাঁর জীবন কাহিনী যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধর্মচর্চা ও জ্ঞান অর্জনের পথ কখনও বন্ধ হয় না।
ছেলেমেয়ে, মৃত সহ ধর্মিনি তৌহুরার সঙ্গে সমৃদ্ধ পরিবার—এক অনুপ্রেরণার গল্প
১১০ বছর বয়সেও জীবনের জ্যোতি হিসেবে আলোকিত জীবন যাপন করছেন আনছার আলী মন্ডল। দীর্ঘ জীবনেও তিনি নিয়মিত কোরআন ও হাদিস অধ্যয়ন করেন, যা শুধু তার ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
আনছার আলী মন্ডলের পরিবার সমাজে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তার ছয় ছেলে এবং দুই কন্যা সন্তান প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী জীবনযাপন করছেন।
ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে রহমান (৬০) একটি মাদ্রাসায় শিক্ষাকতা করেন । এরশাদ (৫৫) প্রবাশী ও ব্যাবসা তার অবদান দিয়ে পরিবারকে শক্তিশালী করেছেন।
জয়নাল (৫৩) নৈতিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ( কৃষক) । শহিদ (৫০) অটো চালক,ছোট ছেলে ওয়েজ (৪৫) হোটেল ব্যাবসায়ী এবং ইদ্রিস (৪২) অটো চালক ,পরিবারের কন্যারা—সালেহা বেগম (৬৫), যিনি পরিবারের নৈতিক ও মানবিক ভিত্তি স্থাপন করেছেন, এবং ফাতেমা খাতুন (৩০), যিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সফল ও দায়িত্বশীল নারী হিসেবে উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
এছাড়াও পরিবারে ছিলেন সহ ধর্মিনি মৃত তৌহুরা, প্রতিদিনের জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখার পাশাপাশি পরিবারকে একত্রিত রাখতেন।
আনছার আলী মন্ডলের জীবনের শিক্ষা স্পষ্ট—বয়স কখনো জ্ঞানার্জনের পথে বাধা নয়। তার ছেলেমেয়েরা তার জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তাদের কর্মক্ষেত্র এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেন।
প্রতিটি জন্মদিন, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিবারকে একত্রিত রাখে, যার ফলে পারিবারিক বন্ধন ও সৌহার্দ্য দৃঢ় হয়ে ওঠে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!