শীতের মিষ্টি আমেজ: গ্রামবাংলায় খেজুরের রস সংগ্রহের ধুম

লাইফস্টাইল ডেস্ক | ১২ জানুয়ারি ২০২৬

শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে এখন উৎসবের আমেজ। কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে গাছিরা ব্যস্ত খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে। ফরিদপুরের নগরকান্দা, যশোরের চৌগাছা থেকে শুরু করে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলোতে এখন বাতাসে ভাসছে খেজুর রসের মিষ্টি ঘ্রাণ। বাঙালির এই চিরচেনা শীতকালীন ঐতিহ্য শুধু একটি পানীয় নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শীত যত বাড়ছে, রসের মিষ্টতাও তত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন গাছিরা। বর্তমানে: একটি গাছ থেকে দৈনিক গড়ে ৩-৪ লিটার রস পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি লিটার কাঁচা রস বাজারে ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রস থেকে তৈরি নলেন গুড় ও পাটালি গুড় দিয়ে ঘরে ঘরে চলছে ভাপা, চিতইসহ নানা রকম পিঠা-পুলি ও পায়েসের উৎসব।

খেজুরের রস অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও বর্তমান সময়ে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে:

কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকুন: বাদুড়ের লালা বা মল-মূত্র থেকে নিপাহ ভাইরাস ছড়াতে পারে, যার মৃত্যুহার প্রায় ৭০-১০০ শতাংশ। তাই কাঁচা রস পান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ফুটিয়ে পান করুন: রস অন্তত ৭০°C তাপমাত্রায় ফুটিয়ে পান করলে ভাইরাস মুক্ত হওয়া সম্ভব। তবে রস থেকে তৈরি গুড় বা ভালোভাবে সেদ্ধ পিঠা খাওয়া নিরাপদ।

পরিচ্ছন্নতা: রস সংগ্রহের হাঁড়িতে বিশেষ নেট বা আবরণ ব্যবহার করে বাদুড়ের মুখ দেওয়া বন্ধ করতে গাছিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শীতের এই মিষ্টতা যেন শোকের কারণ না হয়, সেজন্য ঐতিহ্য পালনের পাশাপাশি সচেতন থাকাও জরুরি।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!