কেন্দুয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকদের স্বপ্ন

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শহরে পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকদের স্বপ্ন, দিনদিন বাড়ছে কৃষকের হাহাকার। 

টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা ও পৌর এলাকার  বিভিন্ন হাওরের বোরোধান তলিয়ে গেছে, ফলে পাকা ও আধাপাকা ধান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া হাওর, জালিয়ার হাওর, কালিয়ান বিল, আবদাইল হাওর, গোদিয়ার হাওর, বগাজান বিল, গোগ হাওর, জালালপুর হাওর ও দলপার আবদাইন বিল সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে ডুবে আছে। 

কোথাও কোথাও কৃষকরা কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করলেও ঠান্ডা পানি ও শ্রমিক সংকটে কাজ এগোচ্ছে না।

 কৃষকদের অভিযোগ- ধান কাটার উপযুক্ত সময়ে আকস্মিক বন্যায় তাদের সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেতেই ধানগাছ পানির ২ থেকে ৩ ফুট নিচে তলিয়ে গেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়- এবছর কেন্দুয়ায় ২০ হাজার ৭'শ ৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল, এরমধ্যে টানা বৃষ্টিতে ৮'শ ৭৩ হেক্টর বেশি জমির ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে পাকা ও আধাপাকা বোরোধান, আউশের বীজতলা, পাট ও বিভিন্ন ধরনের সবজি তবে বোরোধানের ক্ষতিটাই বেশি। 

কৃষক পোড়াবাড়ি গ্রামের নুর মিয়া, ধলিয়াকোণা গ্রামের ফেরদৌস মিয়া, কোণাপাড়া গ্রামের মোহন মিয়া, জুড়াইল গ্রামের সেলিম মেম্বার, দলপা গ্রামের জুয়েল মাহমুদ, বড়কান্দা গ্রামের লিটন মিয়া বলেন- আমাদের স্বপ্ন শেষ, আমরা সারা বছরের কষ্টের ফসল পানির নিচে, প্রতি কাঁটা প্রায় তিন হাজার টাকা খরছ করেছি তা হাওলাত ও মানুষের কাছে থেকে টেনে। এখন এই টাকা কেমনে পরিশোধ করবো তা ভেবে পাচ্ছি না। 

দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান মোসলেম বলেন- অনেক কষ্টে জমিগুলো আবাদ করে হাই পাওয়ার মেশিনের অভাবে পাকা ধান কাটতে পারি নাই, কিন্তু অনেক কষ্টে এলাকার ২০০ জন লোকজনকে নিয়ে হাতে ধান কাটার পরও ধানের মুঠি গুলো জমি থেকে তুলতে পারি নাই, পরদিন পানির স্রোতো ভাসিয়ে নিয়ে গেল। আমার প্রায় ৪০০ মন ধান ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও আমার ভাইদের প্রায় আরও ৩০০ মন ক্ষতি হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জল সাহা জানান, উপজেলার ১টি পৌরসভা সহ ১৩ টি ইউনিয়নের প্রায় সবগুলোই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!