রাজশাহীর সেই নারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে শিক্ষা কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে গত বৃহস্পতিবার নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে জুতাপেটা করার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই শিক্ষককেই সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে কলেজ পরিদর্শন শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান এই নির্দেশ প্রদান করেন।

একই সাথে কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা জানতে চেয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী একটি তাফসির মাহফিলের দাওয়াত দিতে কলেজে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষক আলিয়া খাতুন দুজনকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর শাহাদত আলী নামে এক বিএনপি কর্মী কলেজে গিয়ে আলিয়া খাতুনের সাথে বিতর্কে জড়ান। আলিয়া খাতুনের দাবি, তাকে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি চড় মারেন। এর প্রতিবাদে শাহাদত আলী পা থেকে জুতা খুলে ওই শিক্ষককে নির্মমভাবে পেটান।

পরবর্তীতে শাহাদতের ছেলে ও কর্মীরা এসে দ্বিতীয় দফায় অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে মারধর করেন। সবশেষে ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী এসে কলেজের কার্যালয় ভাঙচুর এবং পুনরায় অধ্যক্ষ ও আলিয়া খাতুনকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, তদন্তের স্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। এছাড়া দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এই ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা শাহাদত আলীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, "আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ বা ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।"

হামলার শিকার শিক্ষক আলিয়া খাতুন বর্তমানে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় এখনো থানায় যেতে পারেননি, তবে সুস্থ হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন হামলাকারীরা তার ফোন ভেঙে পুড়িয়ে দিয়েছে।


মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!