নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার বিচারিক প্রক্রিয়া মাত্র ৪ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হলো।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পড়ে শোনানোর পর বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন:
অপরাধের সত্যতা: শিশু রামিসাকে হত্যার আগে যে ধর্ষণ করা হয়েছে, চিকিৎসকের প্রতিবেদন ও সাক্ষ্যপ্রমাণে তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
স্বীকারোক্তি: আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং পরে তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি।
সহযোগিতা: সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন অপরাধ ধামাচাপা দিতে এবং স্বামীকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।
আদালতের কঠোর মন্তব্য: "এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সংশোধনযোগ্য নয়। এই জঘন্য অপরাধের যদি যথাযথ শাস্তি না হয়, তবে তা হবে আদালতের চরম ব্যর্থতা।"
১৯ মে: রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে ২য় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার অবিন্যস্ত মরদেহ উদ্ধার।
২০ মে: রামিসার বাবার পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের। ঘটনার ৭ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
২৬ মে: ঘটনার মাত্র ৬ দিনের মাথায় আদালতে দ্রুততম সময়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল।
১ জুন: মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু।
২ জুন: মাত্র ১ দিনেই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর (পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তা) সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন।
৪ জুন: রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুনানি শেষ।
৭ জুন: ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক চূড়ান্ত রায় ঘোষণা।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকেই আসামিদের কারাগার থেকে এনে হাজতখানায় রাখা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!