আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিজেদের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাস্কাটে চলমান কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই মহড়ার কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই বাণিজ্যপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আইআরজিসির প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এই মহড়া পরিচালনা করছেন। পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আবু মুসা দ্বীপ এবং এর সংলগ্ন জলসীমা।
জানা গেছে, ইরান এই দ্বীপে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে যা ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
বিশ্বের মোট পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
মোট তরল গ্যাসের (LNG) এক-পঞ্চমাংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। মহড়া চলাকালীন জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে আরব সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’সহ মোট ৫টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে।
২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এই অপারেশন চালিয়েছিল, যা দুই দেশের সম্পর্ককে চরম তলানিতে নিয়ে যায়।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমানের মাস্কাটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে দ্বিতীয় দফার বৈঠক চলছে। এই বৈঠকের মধ্যেই ইরানের এই শক্তি প্রদর্শনকে বড় ধরনের বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!