মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু ঢাকা।। ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ মিরপুর বিআরটিএ অফিস যেনো ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্য।
মিরপুর বিআরটির মালিকানা পরিবর্তনের ইন্সপেক্টর আফজালের দুর্নীতির শেষ কোথায় এমন প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগী গাড়ি মালিকদের। ইতিপূর্বে তিনি একই সার্কেলে মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অতীতের ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো। তবুও প্রশ্ন থেকে যায় এইরকম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে কিভাবে মালিকানা পরিবর্তনের মত একটা স্পর্শকাতর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়। আসলে তার পিছনে কোন একটা দৈব শক্তি কাজ করছে।
মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের সেবামূলক মহানুভবতায় “”দুপুরে ফেল–সন্ধ্যায় পাশ”” সিস্টেম ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। আর তাই নির্বিঘ্নে অদক্ষ ও নামসহি করতে না পারা ব্যক্তিরাও হরহামেশাই লাইসেন্স নিয়ে হাসিমুখে বাসায় ফিরছে। ফলে সড়ক- মহাসড়ক পরিণত হয়েছিল জাহান্নামে। আর মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেন ঘুষ দুর্নীতির টাকায় গড়ে তুলেছেন নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। প্রতি কর্মদিবসে এখানে ২০০ জন লাইসেন্স এর আবেদন এবং ১০০/১১০ টা প্রায় নবায়ন আবেদন জমা হতো সাবেক মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের টেবিলে।
দুর্নীতির টাকায় আফজাল হোসেন ঢাকায় একাধিক বাড়ি/ ফ্ল্যাট, দুটি প্রাইভেট কারের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএর প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা উচ্চপদস্থদের ‘ম্যানেজ’ করে বহাল তবিয়তে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিআরটিএ। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমএলএসএস মাহবুবের সহায়তায় তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিতেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স এর লিখিত পরীক্ষায় ২০ এর মধ্যে ১২ পেলেই পাশ। তবে ৪/৫ বা O পেলেও সমস্যা নেই, আপনাকে যেতে হবে করিৎকর্মা মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের টেবিলে অথবা ধরতে হবে তাঁর পোষ্য দালাল সিন্ডিকেটের যেকোনো একজনকে। তবে সরকারি খরচের বাইরে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান সাহেবের কঠোর নজরদারী ও ধারাবাহিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে এ অফিসের সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে। আগে এ অফিসে গোরুর হাটের মতো জটলা ধরতো দালাল চক্র। এখন ৪/৫ জন করে আলদা আলাদা ভাবে দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছে।আর অধিকাংশ দালাল থাকছে বিআরটিএর সামনে পিছনে ডানপাশে ফটোস্ট্যাট ও পানবিড়ির দোকান ও বড়ো রাস্তার ওপারে ওয়াসার দেয়াল ঘেষে গজিয়ে ওঠা টং দোকানগুলোতে। দামদরে পরতা হলে এসব দালালরা ওইসব দোকানে বসেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে পরিদর্শক আফজাল হোসেনের মোবাইলে।গ্রেফতার এড়াতে দালালরা
ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ধোকা দিতে এসব দালালরা এখন নিজ নিজ ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্বলিত একটি করে ওয়াটার প্রুফ ফাইল সংরক্ষণ করছেন। এসব ফাইল বগলে নিয়ে বিআরটিএর ভিতরে বাইরে দাপিয়ে বেড়ানোসহ পৌঁছে যাচ্ছেন মোটরযান পরিদর্শকের খাসকামরাতে। হঠাৎ করে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পড়ে গেলে তাদের হাতে থাকা ফাইলের কাগজপত্র চেক করলে মনে হবে তারা লাইসেন্স করাতে নয়, নিজের জন্য লাইসেন্স তৈরি করতে এসেছেন। তাছাড়া এরা পরিদর্শক ও অন্যান্য অফিস স্টাফদের সামনেই নিজেদেরকে পরিচয় দেন অফিস স্টাফ, মাস্টার রোল অথবা আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে। কেউ কেউ অমুক স্যারের কথিত শ্যালক, ভাগ্নে, কাজিন বা অমুক স্যারের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে। এইরকম প্রায় “”তিনডজন চিহ্নিত দালালের গডফাদার”” মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেন নিজেই।
এ-ই আফজালের কব্জায় চাঁদপুরের ৬০০ সিএনজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের ও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন অতি শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় ইতিপূর্বে তার কর্মস্থল চাঁদপুরে তিনি একাধিক অপকর্ম করার দায়ে তাকে সেখান থেকে ঢাকার মিরপুর বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি মালিকানা পরিবর্তন শাখার ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাছে মালিকানা পরিবর্তন করার জন্য গেলেই বিভিন্ন রকমের সমস্যা তিনি উপস্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কাগজ নেই ওই কাগজ নেই এটা আনেন ওটা আনেন নানা সমস্যা। আবার তার নির্বাচিত দালালদের কাছে একই কাগজপত্র উপস্থাপন করলে বা চুক্তি সম্পাদিত হলে ঐ কাগজেই কাজ সম্পাদন হয়। মাঝে শুধু বাজারে চলমান কিছু কাগজ(টাকা) দিলেই হয়। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে উক্ত প্রতিবেদক আফজালকে ফোন দিলে তিনি পরিচয়পেয়ে রাগের স্বরে বলেন এখন ভাত খাচ্ছি ফোন রাখেন। পরবর্তীতে পুনরায় ফোন দিলে তিনি আর ফোনটি রিসিভ করেননি। উপর্যূপুরি একাধিক সাংবাদিককে দিয়ে প্রতিবেদক কে ফোন করান। তাদের মধ্যে সাজ্জাদ নামে রয়েল টিভি লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী নিজেকে ডিআরইউ মেম্বার পরিচয় দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। এছাড়াও তিনি কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের সদস্য বলে দাবি করে প্রতিবেদকের কর্মস্থলের সাবেক সিনিয়র দুই একজন সাংবাদিকের নাম বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন।
তার অপরাধ তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী জনতা |
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!