অকটেন সংকট: গুজব বনাম বাস্তবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:   ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং ‘অকটেন নেই’ সংকেত জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশে অকটেনের কোনো বাস্তব সংকট নেই।


দেশে বছরে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির ৬ শতাংশ হলো অকটেন। বর্তমানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১,২২২ টন, যা যুদ্ধ শুরুর আগে কিছুটা কম ছিল।


  • দেশীয় উৎপাদন: চাহিদার ৫০ শতাংশ অকটেন দেশেই উৎপাদিত হয়। বেসরকারি চারটি রিফাইনারি এবং সরকারি গ্যাস ফিল্ডের উপজাত (কনডেনসেট) শোধন করে এই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

  • আমদানি: বাকি ৫০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

বিপিসির তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে দেশে অকটেনের মোট সরবরাহ থাকবে প্রায় ৭০ হাজার টন, যার বিপরীতে চাহিদা মাত্র ৩৭ হাজার টন।

  • ৬ এপ্রিল ২৫ হাজার টন এবং মাসের শেষ দিকে আরও ২৫ হাজার টনের জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

  • এছাড়া দেশীয় শোধনাগারগুলো থেকে পাওয়া যাবে ৩০ হাজার টন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংকটের মূল কারণ সরবরাহ নয়, বরং ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা। যুদ্ধের খবরে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে মানুষ বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করতে শুরু করে। প্রশাসনের অভিযানে ইতিমধ্যে প্রায় ২৯ হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুত করা অকটেন উদ্ধার করা হয়েছে।

পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত থাকায় এপ্রিল মাসে অকটেন বা পেট্রলের ঘাটতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্যানিক বায়িং বন্ধ হলে ফিলিং স্টেশনগুলোর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!